Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সম্পাদকীয়  ||  ৯ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা আশ্বিন ১৪১৬ •  9th  year  6th  issue  Sept-Oct  2009 পুরনো সংখ্যা
শ্রদ্ধাঞ্জলী : এক পরম বন্ধুর চিরবিদায় Download PDF version
 

সম্পাদকীয়

 

শ্রদ্ধাঞ্জলী :

এক পরম বন্ধুর চিরবিদায়

 

চলে গেলেন টেড কেনেডি ৭৭ বছরের কর্মময়, উজ্জ্বল জীবনকে পেছনে ফেলে চলে গেলেন সিনেটর এডওয়ার্ড মুর কেনেডি। প্রায় বছরখানেক ব্রেইন ক্যান্সারে ভুগে গত আগস্ট ২৫ মৃত্যুবরণ করলেন তিনি। সিনেটর কেনেডির কর্মময় জীবনের কথা, তার সুদীর্ঘ ৪৬ বছরের সেনেট জীবনের কথা আমরা সবাই কমবেশি জানি। বিশেষ করে তাঁর মৃত্যুর পর মিডিয়াতে এসব বিষয় আলোচিত হয়েছে প্রচুর। সিনেটর কেনেডি সুপরিচিত ছিলেন লিবারেল লায়ন হিসেবে। প্রগতিশীল উদারপন্থী নেতা কেনেডি বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন এক ব্যতিক্রমী মার্কিন সিনেটর হিসেবে। দীর্ঘ সিনেট জীবনে তিনি অবিরাম লড়াই করে গেছেন সাধারণ খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের জন্য। ৪৬ বছরের সিনেটর জীবনে প্রায় হাজার খানেক বিল পাশের সঙ্গে জড়িত ছিলেন টেড কেনেডি এরমধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক সিভিল রাইটস এ্যাক্ট, ডিজএবিলিটি এ্যাক্ট, ইমিগ্রেশন সংস্কার, শিশুদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এ্যাক্ট ইত্যাদি।

সিনেটর কেনেডির মৃত্যুতে তাই, স্বাভাবিকভাবেই, এদেশের সর্বস্তরের মানুষ শোকাভিভূত হয়েছে আন্তরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে শেষ বিদায় জানিয়েছে এই সংগ্রামী মানুষটিকে। এসব কিছুর সঙ্গে সিনেটর কেনেডির জীবনের আরো একটি অধ্যায়, আরো একটি লড়াই তাকে অত্যন্ত কাছের মানুষ করে রেখেছে আমাদের কাছে বাংলাদেশীদের কাছে।

কথায় বলে, বিপদে বন্ধুর পরিচয়। আমাদের তখন চরম বিপদ ১‌৯৭১ সালের কথা বলছি। মুক্তিযুদ্ধ চলছে বাংলাদেশের মানুষের দুর্দশার শেষ নেই। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন তথা গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিচারে আর বলছে এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। পাকিস্তান তখন আমেরিকার পরম বন্ধু। তাই নিক্সন-কিসিঞ্জারের মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে শুরু করল, ওটা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, আমাদের নাক গলানোর কোন দরকার নেই! আমাদের সেই দুর্দিনে এদেশের যে রাজৈনিতক ব্যক্তিত্ব প্রতিবাদ করেছিলেন, মার্কিন প্রশাসনের ভ্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নন ম্যাসাচুস্যাটসের তরুণ সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি। সিনেটর কেনেডি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুত্বের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামের সমর্থনে তাদের পাশ এসে দাঁড়ানো কোন স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নয় এতে সিনেটর কেনেডির কোন মোক্ষ লাভ হয়নি। সংগ্রামী সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে, বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো ছিল তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূলমন্ত্র। হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর অমানুষিক অত্যাচার এবং নিরস্ত্র অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে তাদের পাশবিকতাকে তাই সিনেটর কেনেডি মেনে নিতে পারেননি। ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সীমান্তে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে যেখানে বাংলাদেশের মানুষ আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তান বাহিনীর পাশবিকতা থেকে বাঁচবার জন্য। এক কোটি শরণার্থীর দুর্দশা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করে ফিরে এসে কেনেডি সিনেট জুডিশিয়ারী কমিটির কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট করেছিলেন ক্রাইসিস ইন সাউথ এশিয়া শিরোনামে। এই রিপোর্টে কেনেডি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার কথা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন এবং মার্কিন প্রশাসনকে চোখ মেলে দিবালোকের মত সত্যটি দেখবার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের চোখ খুলেনি, কিংবা বলা যায় তারা উটের মত বালুতে চোখ গুঁজে রাখতেই মনস্থির করেছিলো। তাই বলে সিনেটর কেনেডি চুপ করে বসে থাকেননি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কাজ করে গেছেন, এদেশের সাধারণ মানুষকে বাংলাদেশের গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরও মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান সহজে পরিবর্তন হয়নি বাংলাদেশকে বটমলেস বাসকেট বলে টিটকারী করেছেন হেনরী কিসিঞ্জার। কিন্তু সিনেটর কেনেডি আবারও গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষের পাশে। স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে, কেনেডি সফর করেছিলেন সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক ভাষণে বলেছিলেন, মার্কিন প্রশাসন তোমাদের স্বীকৃতি না দিলেও সারা পৃথিবীর মানুষ তোমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

তাই বলছিলাম, এমনি এক বন্ধুকে হারিয়ে আমরা, বাংলাদেশীরা, ভীষণভাবে শোকাহত। সিনেটর কেনেডির মহাপ্রয়াণে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তার সংগ্রামী সফল জীবনের কথা, কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের জন্য তার সহমর্মিতা ও বলিষ্ঠ সমর্থনের কথা। শান্তিময় হোক তাঁর পরলৌকিক জীবন।

 

ঈদ ও বিজয়ার শুভেচ্ছা  

পড়শীর এ সংখ্যা যখন পাঠকদের হাতে তখন বিশ্বব্যাপী পাঠকরা উদযাপন করছেন দুটো প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং শারদীয় দুর্গোৎসব। বাঙালিরা পৃথিবীর যখানেই থাকুন না কেন, মুসলিম এবং হিন্দু ধর্মের এই দুটো প্রধান উৎসব সবাইকেই উদযাপনের আনন্দে মাতিয়ে তোলে কমবেশি। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি নিয়ে আমরা উদযাপন করি ঈদ এবং বিজয়া। এবারের উদযাপন সবার জন্য আনন্দময় হোক, মঙ্গলময় হোক। পড়শীর পাঠক, লেখক, দাতা, সহকর্মী সবার জন্য ঈদ এবং বিজয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

ঈদ মুবারক -

শুভ বিজয়া-

 

মাহমুদুল হাসান

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০০৯।

স্যান হোজে, ক্যালিফোর্নিয়া।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.