Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ৯ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা আশ্বিন ১৪১৬ •  9th  year  6th  issue  Sept-Oct  2009 পুরনো সংখ্যা
আংটি Download PDF version
 

সাহিত্য

 

  ধারাবাহিক ছোটগল্প

 আংটি

  মোমিনুল হক

 

            মাইক ডেভিস যাচ্ছিল রাজধানী ওয়াশিংটন-ডিসি থেকে শিকাগো। যাচ্ছিল প্লেনে। প্লেন মধ্যখানে বিরতি নেবে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কলাম্বাস শহরে। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় ঘন্টার যাত্রা। মাইকের  কাঁধে ঝোলানো আছে একটা বড়ো ব্যাগ এবং ক্যামেরা। হাতে লেপটপ এবং বই-ভর্তি আরেকটি ছোট ব্যাগ। ইন্টারনেটে টিকিট কাটতে গিয়ে বোতাম টিপে সংকেত দিয়েছিল, একেবারে সম্মুখের সিটে জানালার পাশে তাকে যেন যায়গা দেয়। সেখানে হাত-পা ছড়িয়ে বসা যায়। অন-লাইনে ছাপানো টিকিট হাতে নিয়ে লম্বা লাইন দিয়ে অবশেষে যখন সে সিটে এসে সবে হাত-পা ছড়িয়ে বসেছে, তার পার্শ্ববর্তি সিটের যাত্রী হাতে একটা স্যুটকেস এবং কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে হাজির। তিনি মহিলা। মেয়েদের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদেরকে কোন বিশেষ বয়সের ছকে ফেলা ঝুঁকির ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে আন্দাজ করতে চেষ্টা করল, মহিলা পঁচিশের পরেই কোথাও থমকে দাঁড়িয়ে আছে। সে দীর্ঘাঙ্গীনী। গভীর নীল চোখ। তার সোনালী চুল কাঁধের উপর এসে লুটিয়ে পড়েছে। গলার সোনার চিকন হারের লকেট বুকের উপত্যকায় হারিয়ে গেছে। তার হাতের ভারী স্যুটকেস ও কাঁধের ব্যাগটা মাইক মাথার উপর লাগেজ-তাকে রেখে দিতে সাহায্য করল। মহিলা উদার হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে তাকে ধন্যবাদ জানালো। মাইকের মনে হলো, মহিলার উদার হাসি তার চোখে ও মুখে আলো হয়ে নেচেছিল। এক অকৃপণ হাসি, যা বহুদিন মনে রাখবার মতো।

     মহিলা বসতে গিয়ে তার টিকিটের দিকে ভালো করে তাকাল। সে বলল, আমি তো জানালার পাশে সিট দিতে অনুরোধ করেছিলাম!-

     মাইক ভাবল, সেও তো কম্পুটারে বোতাম টিপে সেই একই অনুরোধ রেখেছিল। হলো কী! মহিলা তার টিকিট (টাইপ-করা চিরকূট নয়!) মাইকের চোখের সম্মুখে তুলে ধরলো। মাইক দেখল, জলজ্যান্ত সেখানে তার সিটের নম্বরই লেখা আছে। সে তার অন-লাইনে ছাপানো পত্র-খানা মহিলাকে দেখাল। সে দেখল ভালো করে। দেখে বিমর্ষ বা বিষণ্ণ হলো বলে মাইকের মনে হলো। মাইক তাড়াতাড়ি তার বইপত্র জড় করে নিয়ে, জানালার পাশের সিট ছেড়ে দিয়ে, তাকে বসতে বলল। মহিলা কিছুটা অপ্রস্তুত এবং কিছুটা লজ্জিত হয়ে জানালার পাশের সিটে এসে বসল।

: সত্যি, আমি দুঃখিত! এয়ারলাইনগুলো আজকাল বড়ো বেখেয়ালী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে পড়েছে!- এই বলে মহিলা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সিটের সম্মুখে ফ্লোরে সে রাখল তার হাতব্যাগ।

: মন খারাপ করার কোন প্রয়োজন নেই। এমন আকসারই হয়!- মাইক তাকে অভয় দিয়ে হেসে তার পাশে এসে বসল। ভাবল, নাক ডেকে ঘুমাবে এমন মোটাসোটা বয়সভারী কোন এক সহযাত্রীর চাইতে এই মহিলা বা তরুণী হাজার গুনে ভালো! জানালের পাশের সিট হারাবার মনোবেদনা তার আর থাকল না।

     প্লেন উড়াল দিয়েছে। যে সময় উড়াল দেওয়ার কথা ছিল, তার থেকে অন্ততঃ আধ-ঘন্টা দেরি করে। বিলম্বের জন্যে পাইলট যথারীতি ক্ষমা চাইল। বলল যে কোথায় পথে নাকি আবহাওয়ার অবস্থা ভাল যাচ্ছিল না। তাই দেরি করেই যাত্রা করতে হলো। তবে এই সময়টুকু পুষিয়ে নেবে বলে পাইলট সবাইকে আশ্বস্থ করল। পেছনে কে যেন প্রভূ যিশুর নাম নিলো।

     প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে, বহু নিচে মেঘাচ্ছন্ন এপালেশিয়ান পর্বতমালার উপর দিয়ে যখন সে যাচ্ছিল, তার সহযাত্রী জানালার বাইরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে এনে মাইককে হেসে বলল, বাইরে বড়ো চমৎকার। বহুদূরে সূর্য ডুবছে। তোমাকে সিটটা ছাড়তে হলো বলে আমি বড়ো দুঃখিত!-

     মাইক হাসল। এ ছাড়া তার আর কীইবা করার ছিল, বা কীইবা সে করতে পারত!

     সে হাত বাড়িয়ে দিয়ে হেসে বলল, আমি ইলোরা জোনস। তুমি আমাকে ইলা ডাকতে পারো।-

: আমি মাইক ডেভিস।- সে তার নাম বলল এবং ইলার কোমল হাত তার হাতের মুঠোয় নিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানাল।

: তুমি যাচ্ছো কোথায়?- সে প্রশ্ন করল।

: আমি যাচ্ছি শিকাগো।-

ইলা মাইকের মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। হয়তো সে আশা করেছিল, মাইক তাকে পাল্টা প্রশ্ন করবে, তোমার গন্তব্যস্থান কোথায়। তেমন কিছু মাইক করল না।

ইলা হেসে বলল, বেশ ভালোই হলো, আমিও যাচ্ছি শিকাগো।-

কেন সেটি খুব ভালো হলো, মাইক ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। সে যে খুব সরস সহযাত্রী হতে পারে এমন প্রশংসা তো কোনদিন কারো মুখ থেকে সে পেয়েছে বলে তার মনে পড়ল না। বরঞ্চ মোটা বই মুখের সম্মুখে ধরে রেখে সে মহাসাগর বা মহাদেশ পাড়ি দিয়েছে বলেই তার স্মরণে পড়ে। এখনও তাই করার মতলবে সে আছে।

: তুমি কি শিকাগোর বাসিন্দা?- মাইক ইলাকে প্রশ্ন করল। নেহায়েত কিছু না বললে খারাপ দেখায়।

: এক হিসেবে তাই বলতে পারো। ওখানে আমি কাজ করি। ওখানে আমার বাড়ি আছে।-

মাইক হেসে চুপ করে থাকল।

একটু পরে ইলা মাইককে বলল, কই তুমি তো জিজ্ঞেস করলে না, আমি কী কাজ করি এবং শিকাগোর কোথায় থাকি?- সে মুচকি হাসল, যেন রসিকতা করছে। সে আবার বলল, আমি জানি কেন তুমি সেই প্রশ্ন করো নি!-

: বলো, কেন সেই প্রশ্ন করি নি। - মাইক তাকে হেসে জিজ্ঞেস করল।

: তুমি যদি সেই প্রশ্ন করতে, তাহলে আমিও তোমাকে পালটা প্রশ্ন করতে পারতাম, কোথায় তোমার নিবাস, কেন যাচ্ছো শিকাগো, - এমনি সব ঘরোয়া প্রশ্ন, যার উত্তর মেয়েরা অনেক সময় জানতে চায়। - ইলা হেসে উঠল।

: আমি তো জানতাম না যে মেয়েরা এসব খবর নিতে চায় বা পেতে চায়। বিশেষ করে একটা অজানা লোক থেকে।- মাইক হেসে বলল, কী লাভ এতে?-

: হ্যাঁ, অজানা লোক থেকেই তো জানতে চায়। বিশেষ করে, সে যদি সুপুরুষ হয় এবং একগাদা বই ও কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়!-

মাইক লজ্জায় যেন লাল হল।

: ক্ষমা করো! তোমাকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছি।-

: ক্ষমা করার কিছু নেই। তেমন কোন সুন্দরী রমনীর পাশে বসলে ছেলেদের মনেও আরো অনেক প্রশ্ন জেগে উঠতে পারে, যা খুলে বললে মানহানীর মামলা রজ্জু করা যায়!- মাইক হেসে বলল।  

: মানহানীর মামলা মেয়েরা করবে না। তারা জানতে চায়, তোমাদের চোখে চলচ্চিত্রের কোন নায়িকা হয়ে সে ধরা দিলো। আমরা পূজিত হতে চাই!-

: এটি কি খুব বেশি চাওয়া হলো বলে মনে হয়?- মাইক প্রশ্ন করল।

: কেন বলছো, বেশি চাওয়া হলো? কিছু প্রশংসা, কিছু ফুল, চোখ দিয়ে একটুখানি ছোঁয়া, - এ তো অনেক পাওয়া! তোমরা তা জানো না।- ইলা হাসতে হাসতে বলল।

: বলো, তুমি কী করো?- মাইক হেসেই তাকে প্রশ্ন করল।

: আমি শিকাগো মিউজিয়মে কাজ করি। ভারতের মোগল আমলের আর্ট বিভাগের সাথে জড়িত আছি।- ইলা বলল।

     ভারত সম্বন্ধে মাইকের জ্ঞান আর অন্য সব আমেরিকানদের মতোই। দরিদ্র দেশ! গা ঝাড়া দিয়ে জ্বরাগ্রস্থ হাতি উঠে দাঁড়াতে যাচ্ছে! মোগল আমলের কথা স্কুলের ইতিহাস বা ভূগোলে কিছু ছিল বলে মাইকের মনে পড়ছে না। তাজমহলের নাম সে শুনেছে। রঙিন ছবি দেখেছে। এটুকুই তার মোগল আমলের ইতিহাস জ্ঞান। সিন্ধুতে বিন্দুও বলা যায় না!-

     মিউজিয়ম, বিশেষ করে ভারতের মোগলযুগের ব্যাপার-স্যাপারে মাইকের খুব জ্ঞান আছে বলে ইলার মনে হলো না। সে মাইককে বোঝালো, মানব সভ্যতার এক স্বর্ণযুগে এসব চিত্রাংকন হয়েছিল। এর এক বিরাট কলেকশ্যন শিকাগো মিউজিয়মে রয়েছে। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে সে আছে।

     মাইক কিছুই বলল না। সে শুধু শুনে গেল।

: এবার বলো, তুমি শিকাগো যাচ্ছো কেন? তোমাকে তো শিকাগোবাসি বলে মনে হয় না!-

: শিকাগোবাসিরা দেখতে কেমন হয়, বলো?- মাইক তাকে হেসে প্রশ্ন করল।

: তোমার কথাবার্তায় দেশের রাজধানীর ভাবসাব পাই!-

: ভাবসাবটা কেমন?- মাইক তাকে আবার প্রশ্ন করে।

: এক কথার একাধিক অর্থ তাদের কথায়!-

: যেমন?-

ইলা হেসে বলল, কূটনৈতিক! ধরি মাছ, না ছুঁই পানি গোছের।-

: কূটনীতিকদের বিশ্ব-আড্ডাখানা হচ্ছে ওয়াশিংটন-ডিসি। আমাদের কথাবার্তায় কিছুটা হেঁয়ালি তো থাকবেই!-

: বেশ মানলাম তোমার কথা। এবার বলো, শিকাগো যাচ্ছো কেন?- ইলা প্রশ্ন করল।

: শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে। ক্ষুদ্র ঋণের উপর। এর উদ্ভাবক হচ্ছেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক। তাঁর নাম মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি এ দেশেই পড়াশোনা করেছেন। নোবেল পুরস্কারও পেয়েছেন। হতদরিদ্র ছোটখাট কৃষক-শ্রমিকদের অল্পসল্প ঋণ দিয়ে তিনি নাকি এক বিরাট সমাজ-বিপ্লবের সূচনা করেছেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর ডাক-সাঁইটে অর্থবিদদের ডেকে এনেছে। আমি যাচ্ছি সেই সম্মেলনে যোগ দিতে।- মাইক বলল।

: তুমি কি সেখানে কিছু পড়বে?-

: না! সেই রকমের বিদ্যাবুদ্ধি আমার নেই। আমি একটা ব্যাংকে কাজ করি। আমাদের ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণ সম্বন্ধে জানতে চায়। আমি যাচ্ছি শুনতে। সম্মেলনের কাগজপত্র যোগাড় করতে। সম্মেলনের দুএকজন বিশেষ মেহমানকে আমরা দাওয়াতও জানাতে পারি। ব্যাপারটা নেহায়েতই সোজা। এর জন্যে কোন বিশেষ ডিগ্রীর দরকার পড়ে না!- মাইক হেসে বলল।

: মাইক, তুমি চেপে যাচ্ছ। তুমি নিশ্চয়ই উচুঁ-মাপের অর্থনীতিবিদ!-

: না! ব্যাংকের কেউ যেতে চাইলো না। তাই আমি যাচ্ছি। শিকাগো আমার দেখা হয় নি। ভাবলাম, এই সুযোগে সেই কাজটা সমাধা করে আসি।-

: মিশিগান হ্রদের তীরে এই শহরটিতে দেখবার রয়েছে অনেক কিছু। তুমি ভালো যায়গাই বেছে নিয়েছো সময় কাটাবার জন্যে।- ইলা হেসে উঠল। তারপর আবার বলল, এই শিকাগো শহরে অই বাংলাদেশেরই আরেক লোক এমন এক স্থপতি-কাঠামো তৈরি করে গেছেন, যা বিশ্বের স্থপতিবিজ্ঞানে এক নূতন মাত্রা যোগ করেছে। সেটি দেখে যেতে ভুলে যেও না!-

     কোন ধরণের স্থপতিশিল্প গড়ে গেছেন কোন এক স্থপতি, এ মাইকের জানা নেই। সে চুপ করে থাকল। যাত্রীদের রাতের খাবার দিতে মেয়েরা এল। কলাম্বাস শহরে বিরতি দিয়ে তাদের প্লেন উড়াল দেবার পর আরেক দফা চা-কফি দেওয়া হলো। তারা যখন শিকাগো শহরের কাছাকাছি এলো তখন রাত অনেক। মেঘের নিচে নেমে আসার পর সে দেখল, আলোয় ঝলমল বিরাট শিকাগো শহর। এই তার প্রথম আসা শিকাগো শহরে। শিকাগোর ও-হেয়ার বিমানবন্দর নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সব চাইতে বেশি ব্যস্ততম বিমানবন্দর। নিউইয়র্কের কেনেডি বিমানবন্দর থেকেও নাকি বেশি জাহাজ উঠা-নামা করে এখানে। মালামাল নিয়ে অবশেষে তারা প্লেন থেকে নেমে, বাসে করে বন্দরভবনে এলো।

: তুমি হোটেল ঠিক করেছো?- ইলা মাইককে প্রশ্ন করল।

: না করি নি। কয়েকটা হোটেলের নাম-নম্বর আছে। ভিজিটর ব্যুরোতে গিয়ে ফোন করে ঠিক করে নেবো। অসুবিধে হবার কথা নয়।-

     সে মাইকের দিকে কিছুটা অবাক হয়ে তাকাল। মাইক হেসে বলল, শিকাগো শহর এতো বড়ো! নিশ্চয়ই ভালো হোটেল পেতে অসুবিধে হবে না।-

: আগে থেকে হোটেল ঠিক করে আসো নি, এটি খুব ভালো করেছো বলে আমার মনে হয় না। আমি তো শিকাগোবাসি!- ইলা সংশয়পূর্ণ দৃষ্টিতে মাইকের দিকে তাকাল।

: চিন্তিত হবার কোন কারণ দেখছি না। হোটেল পাওয়া এমন কিছু কঠিন নয়!- মাইক  ব্যাপারটাকে খুবই হালকা করে দেখতে চাইল। মেয়েরা যে সব ব্যাপারেই আটঘাট বেধে চলে এ কার না জানা!

     ইলা হাত বাড়িয়ে দিল। বলল, তোমার সাথে ভ্রমণ করে খুবই আনন্দ পেয়েছি। কোথায় দিয়ে সময় কেটে গেল, বুঝলামই না! আবার দেখা হলে খুশি হবো!-

     মাইক ইলার কোমল হাত হাতে নিয়ে হেসে বলল যে এই একই সুখকর অনুভূতি তারও রয়েছে। দুকদম এগিয়ে গিয়ে ইলা আবার ফিরে এল। একখানা বিজিনেস কার্ড এগিয়ে দিয়ে সে বলল যে মাইক যদি সময় পায়, তাকে যেন ফোন করে। সে মাইককে শিকাগো ঘুরিয়ে দেখাতে পারবে। ইলার উজ্জ্বল হাসিময় মুখের দিকে তাকিয়ে মাইক তাকে ধন্যবাদ জানাল তার বদান্যতার জন্যে। মাইকের মনে হলো, ইলার হাস্যোজ্জ্বল মুখখানা অনাগত বহু বছর ধরে তার মনে থাকবে। ইলা গেল বিমান বন্দরেরই কোন এক ভূগর্ভস্থ গাড়ি-গ্যারাজে। সেখানে সে তার গাড়ি রেখে গেছে। মাইক গেল ভিজিটর কক্ষে। সেখানে কাউকে সে পেল না। তবে সেখানে অনেকগুলো ফোন ছিল। শিকাগোর নামকরা অনেক হোটেলের ফোন টুকে এনেছিল সে। সেই তালিকা সম্মুখে রেখে পাঁচতারা হোটেল দিয়ে শুরু করল হোটেল খোঁজা। তালিকার শেষ প্রান্তে এসে, সে যেই খবরটা বারবার শুনল ফোনে, সেটি হচ্ছে শিকাগো শহরে অনেকগুলো বড়ো বড়ো সম্মেলন ও প্রদর্শনী হচ্ছে, - কোন হোটেলেই যায়গা নেই! শিকাগোর দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর হোটেলে ফোন করতে সে সাহস পেল না। শিকাগো দেশবরেণ্য বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশ্বনন্দিত স্থাপত্যের জন্যে যতোই নাম কুড়াক না কেন, এর পথঘাট কলংকিত ও ত্রাসজনক দুর্বিত্তদের গোলাবাজির জন্যে। রাতে হাঁটতে গেলে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে, এমন অনেক অঞ্চল শিকাগো শহরে আছে বলে সে শুনেছে। দাঙ্গাহাঙ্গামা নিয়ে ছবি তোলার জন্যে শিকাগোর কোন কোন এলাকা নাকি হলিউডের বড় প্রিয়।

     সে হতাশ হয়ে ভিজিটর কক্ষ থেকে বেরিয়ে এল। বারান্দায় রাস্তার সম্মুখে চেয়ার পাতা ছিল। সেখানে এসে সে বসল। যদি ভাগ্যক্রমে কোন ট্যাক্সি পাওয়া যায়, কোন হোটেলে গিয়ে ধন্না দিয়ে পড়ে থাকবে। কী আর করা যায়! সে মনে করতে চেষ্টা করল, তার ছাত্র বা কর্মজীবনের কোন বন্ধু-বান্ধব শিকাগো শহরে আছে কিনা। তেমন কাউকে তার মনে পড়ল না। তাদের ব্যাংকে কম্পুটার সেকশানে কাজ করে একটা মেয়ে শিকাগোর বাসিন্দা। তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে সাহায্য ভিক্ষা করবে কিনা সে ভাবল। এই শক্ত বেঞ্চের উপর গা এলিয়ে দিয়ে বাকী রাতটুকু কাটিয়ে দেবের সম্ভাব্যতা নিয়েও সে চিন্তা করল। কোনটিই শেষরাতের এই শীতার্ত প্রহরে উপাদেয় বলে মনে হলো না। সে মাথা নিচু করে ভাবছিল। অথবা বলা যায়, ঝিমুচ্ছিল।

     মাইকের কাঁধে কে যেন টোকা দিল। সে হতচকিত হয়ে মাথা তুলে দেখল, তার সম্মুখে ইলা দাঁড়িয়ে। সে তার বইয়ের থলেটা হাতে নিয়ে বলল, চলো আমার সাথে। রাতটা আমার বাড়িতে কাটিয়ে দিও। এর জন্যে কোন চার্জ করবো না!- ইলা হেসে উঠল।  

     সে উঠে দাঁড়াল। পাশেই ইলার গাড়ি অপেক্ষা করে আছে। সম্মুখের আলো জ্বলছে। ঝকঝকে গাড়ি। গাড়ির পেছনে আসবাবপত্র রেখে, মাইক তার পাশে এসে বসল। গাড়ি চলতে শুরু করল।

ক্রমশঃ

পেনসিলভ্যানিয়া।

 

মন্তব্য:
Khashruzzaman   September 22, 2009
Several years ago I wrote a short story titled "Angti" This was published in a New York Bengali weekly. Readers may read that too. Khashruzzaman Choudhury
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.