Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা আশ্বিন ১৪১৬ •  9th  year  6th  issue  Sept-Oct  2009 পুরনো সংখ্যা
আমাদের গর্ব – ড. মুহম্মদ ইউনুস Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

 

আমাদের গর্ব . মুহম্মদ ইউনুস

ফারহানা আফরোজ কান্তা

     আমার অফিসের এক নতুন সহকর্মী আমাকে সম্প্রতি জিজ্ঞেস করলেন, আমি কোন দেশ থেকে এসেছি। আমি বাংলাদেশ বলায় তিনি  বললেন, হ্যাঁ, আমি জানি, ড. মুহম্মদ ইউনুসের দেশ- বাংলাদেশ। সেদিন গর্বে আমার বুক ফুলে গিয়েছিল। সিডর নয়, আইলা নয়, দুর্নীতিতে প্রথম নয়- ড. মুহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশ। নোবেল শান্তি পুরস্কারের পর ড. ইউনুস সম্প্রতি লাভ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সন্মানজনক বেসামরিক পদক- মেডেল অব ফ্রিডম। বাংলাদেশ যে কজন কৃতী সন্তানের জন্য গর্ববোধ করতে পারে ড. ইউনুস নি:সন্দেহে তাদের অন্যতম।

     গত আগষ্ট ১২ হোয়াইট হাউসে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে এ পদক পরিয়ে দেন। এ পদক পাবার পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ড. ইউনুস বলেন, এ সন্মান প্রাপ্তি শুধু আমার নিজের জন্য নয়, এটা দেশের জন্য সন্মানজনক বলে মনে করছি।

     ১৯৪৫ সালে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুমান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য মার্কিন নাগরিকদের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পদক চালু করেন। ১৯৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি সর্বক্ষেত্রে কৃতিত্বের অধিকারীদের পুরস্কৃত করার জন্য নতুনভাবে এই পদকটি চালু করেন। ড. ইউনুস প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এই সম্মান লাভ করলেন। এ পদক লাভের সঙ্গে তার নাম মাদার তেরেসা, ডেসমন্ড টুটু, নেলসন মেন্ডেলা, ষ্টিফেন হকিং প্রমুখ এর সাথে এক সারিতে লেখা হলে। এটি বাংলাদেশ তথা সকল বাংলাভাষীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

     গরিবের ব্যাংকার নামে পরিচিত গ্রামীণ ব্যাংক তথা ক্ষুদ্র ঋণের প্রতিষ্ঠাতা নিরহংকার এই ব্যক্তি ১৯৪০ সালের ২৮শে জুন চট্রগ্রামের হাটহাজারীতে জন্মগ্রহণ করেন। নয় ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় এই সন্তান খুব ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। চিটাগাং কলেজিয়েট স্কুল, চিটাগাং কলেজ ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরিয়ে তিনি আমেরিকার ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী লাভ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের মধ্যেই ড. ইউনুস বাংলাদেশে ফেরত যান এবং চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।

     ১৯৭৬ সালে চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে তিনি তাঁর ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প চালু করেন পরীক্ষামূলকভাবে। শুরুতে অনেক বাঁধা এলেও আজ ক্ষুদ্র ঋণ তথা গ্রামীন ব্যাংক একটি সফল প্রকল্প। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বহু দরিদ্র দেশ তাঁর এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষায় মাত্র ২৭ ডলার পুঁজি করে মানুষ যে তার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে, ড. ইউনুস তা সত্যে পরিণত করেছেন।

     গ্রামীন ব্যাংক শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেই ঋণ দিয়ে উপকৃত করছে না, তাদের আরও অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গৃহ ঋণ, শিক্ষাঋণ, ভিক্ষুক ঋণবং এ প্রত্যেকটি প্রকল্পেরই একই লক্ষ্য- দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলা। এছাড়াও দেশের যে কোন দূর্যোগের সময় গ্রামীন ব্যাংক তাদের সকল ঋণ প্রকল্পের টাকা আদায় বন্ধ রাখে এবং দূর্যোগ মোকাবেলায় সর্বোতভাবে অংশগ্রহণ করে।

     আবারও প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম-এর কথায় ফিরে যাই। ১৯৬৩ থেকে এ পর্যন্ত যত মানুষ এই পদক লাভ করেছেন তারমধ্যে এশীয় মাত্র পাঁচজন। ড. ইউনুস ষষ্ঠ ব্যক্তি যিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র এশিয়ার জন্য এই সম্মান বয়ে আনলেন। ২০০৯ সালে মোট ১৬ জনকে পদক দেয়া হয়। তারা হলেন-

১. ন্যান্সী গুডম্যান ব্রিংকার (স্তন ক্যান্সার সংস্থার কর্ণধার)

২. পেড্রো হোজে গ্রির জুনিয়র (গৃহহীনদের চিকিৎসা সুবিধাদাতা)

৩. স্টিফেন হকিং (জগদ্বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী)

৪. জ্যাক কেম্প (দুঃস্থ জনগণের জন্য সমাজ সংস্কারক)

৫. সেনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি (যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাদ-প্রতীম রাজনীতিবিদ)

৬. বিলি জীন কিং (সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রণী ব্যক্তিত্ব)

৭. রেভারেন্ড জোসেফ লাউরী (কৃষাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ব্যক্তিত্ব)

৮. জো মেডিসিন ক্রো- হাই বার্ড (রেডইন্ডিয়ান নেতা ও সমাজসংস্কারক)

৯. হারভী মিল্ক (সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রথমসারির কন্ঠ)

১০. সান্ড্রা ডে ওকনার (যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সুপ্রীমকোর্ট মহিলা আইনজীবী)

১১. সিডনী পটিয়ে (কৃষাঙ্গ চলচ্চিত্র অভিনেতা ও সমাজ সংস্কারক)

১২. চিতা রিভেরা (হিস্পানিক অভিনয় ও কলাশিল্পী)

১৩. ম্যারী রবিনসন (আয়ারল্যান্ডের প্রথম মহিলা প্রসিডেন্ট)

১৪. জ্যানেট ডেভিডসন রাউলী (গবেষক, লিউকিমিয়া)

১৫. ডেসমন্ড টুটু (দক্ষিণ আফ্রিকার সমাজ সংস্কারক)

১৬. মুহাম্মদ ইউনুস (ক্ষুদ্র ঋণের উদ্যোক্তা, গ্রামীন ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী)

     ড. মুহম্মদ ইউনুসের এ বিজয় নি:সন্দেহে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরেছে। আমারা তার দীর্ঘ, সুস্থ ও কর্মময় জীবন কামনা করি।

মরগ্যান হিল, ক্যালিফোর্নিয়া।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.