Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা আশ্বিন ১৪১৬ •  9th  year  6th  issue  Sept-Oct  2009 পুরনো সংখ্যা
স্মরণ - ‘বাউল সম্রাট’ শাহ আব্দুল করিম Download PDF version
 

বাউল গান ও সুফিবাদ

স্মরণ - বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম

(১৯১৬ - ২০০৯)

বাউল আব্দুল করিম বলে

জীবন লীলা সাঙ্গ হলে

শুয়ে থাকব মায়ের কোলে

তাপ অনুতাপ ভুলে।

 

সেই গানের মতই চিরনিদ্রায় বাংলা মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়েছেন শাহ আব্দুল করিম - বাংলাদেশের এক কিংবদন্তীসম ব্যক্তিত্ব। ৯৩ বছর বয়স্ক এই বাউল সম্রাট গান লিখেছেন প্রায় ১৫০০। আফতাব সঙ্গীত, ভাঁটির চিঠি, সঙ্গীতসহ প্রকাশিত গানের বই ছয়টি। ২০০১ সালে পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ সন্মান একুশে পদক। সুনামগঞ্জে জন্মেছেন ১৯১৬ সালে, সারা বাংলাদেশের মানুষ আজ তার গানের মুগ্ধ শ্রোতা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তীক্ষ্ রসবোধ কমেনি একটুও - গান তৈরী করেছেন নিজের বার্ধক্যকে উপহাস করে -

আগের বাহাদুরি এখন গেল কই

চলিতে চরণ চলেনা

দিনে দিনে অবশ হই

 

শৈশবে দারিদ্র ছিল নিত্যসঙ্গী, স্কুলে যাওয়া হয়ে ওঠেনি তাঁর, তবু অল্প বয়স থেকে তাঁর গান সৃস্টির ক্ষমতা মুগ্ধ করেছে গ্রামের মানুষকে। গভীর ভাবাবেশে পরিপূর্ণ তাঁর গানের খ্যাতি আশেপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেও সময় লাগেনি বেশি। অভাবের প্রকোপে ক্ষেত খামারে খণ্ডকালীন কাজ করলেও অন্য কোন পেশায় বন্দী হতে পারেননি তিনি - গানই গেয়েছেন মনপ্রাণ দিয়ে।

আধ্যাত্মিক ও বাউল গানের দীক্ষা নেন কামাল উদ্দিন, সাধক রশিদ উদ্দিন ও শাহ্ ইবরাহীম মাস্তান বখশ্-এর কাছে। বাউল গানের পাশাপাশি ভাটিয়ালী, শরিয়তী, মারফতী এবং আরো সব আধ্যাত্মিক গানেও তাঁর দখল ছিল উল্লেখযোগ্য। সারাজীবন অনন্যসাধারণ জীবনযাপন করেছেন তিনি। নব্বই দশকে নতুনভাবে ফিরে এসেছেন বাংলা গানের ভূবনে নতুন শিল্পীদের মাধ্যমে।

নতুন শিল্পীরা অনেকেই শাহ আব্দুল করিমের গান গেয়ে পরিচিতি লাভ করছে, তবে সন্মানী ভাগ করে নেবার মতো সৌজন্য কেউ দেখিয়েছে বলে জানা নেই। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে গাড়ী চলে না, বসন্ত বাতাসে সই গো, কেন পিরিতি বাড়াইলাগো বন্ধু, কোন মিস্তরী নাও বানাইছে, মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে, কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে, ইত্যাদি। বাউল সম্রাটকে নিয়ে শাকুর মজিদের তৈরী সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত প্রামাণ্যচিত্র ভাটির পুরুষ-এ রয়েছে শাহ আব্দুল করিমের দুর্লভ সাক্ষাৎকার আর তাঁর কন্ঠে অসংখ্য গানের কলি।

দীর্ঘদিন রোগভোগের পর সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ সকাল ৭:৫৮ মিনিটে সিলেটের নুরজাহান জেনারেল হাসপাতালে বার্ধ্যক্যজনিত রোগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাউল শাহ আব্দুল করিম বাংলা গানের ভাণ্ডারে যুক্ত করেছেন অমূল্য সম্পদ। বাঙালির হৃদয় জুড়ে তিনি থাকবেন অম্লান। আর বাংলা গানের ইতিহাসে তাঁর রচিত অধ্যায় থাকবে অকৃত্রিম গুরুত্ব নিয়ে।

শাহ আব্দুল করিমের দুটো গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে -

(১)

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম

গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান

মিলিয়া বাউলা গান আর ঘাটু গান গাইতাম

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।

 

বর্ষা যখন আইত, গাজীর গান হইত

রঙ্গে ঢঙ্গে গাইত আনন্দ পাইতাম

বাউলা গান ঘাটু গান, আনন্দের তুফান

গাইয়া সারি গান নাও দৌঁড়াইতাম

 

হিন্দু বাড়িত, যাত্রা গান হইত

নিমন্ত্রণ দিত, আমরা যাইতাম

কে হবে মেম্বার, কে হবে গ্রাম সরকার

আমরা কি তার খবর লইতাম?

 

বিবাদ ঘটিলে, পঞ্চায়েতের বলে

গরিব কাঙ্গালে বিচার পাইতাম

মানুষ ছিল সরল, ছিল ধর্মবল

এখন সবাই পাগল কেমনে বড়লোক হইতাম

 

করি ভাবনা, সেদিন আর পাবনা

ছিল বাসনা সুখী হইতাম

দিন হতে দিন আসে যে কঠিন

করিম দিনহীন কোন পথে যাইতাম।

 

(২)

মানুষ হয়ে তালাশ করলে মানুষ পাওয়া যায়

নইলে মানুষ মিলে নারে

বিফলে জনম যায়।

 

মানুষের ভক্ত যারা, আত্মসুখ বোঝেনা তারা

দমের ঘরে দেয় পাহাড়া

মন মানুষ ধরবার আশায়।

 

যে মানুষ পরশ রতন, সে মানুষ গোপনের গোপন

দেয়না ধরা থাকতে জীবন

পথে গেলে পথ ভুলায়।

 

মানুষের মানুষ আছে, পাপী তাপী সবার কাছে

ফাঁদ পেতে চাঁদ যে ধরেছে

চাঁদ ঢেকে অমাবশ্যায়।

 

মানুষ আছে বিশ্বজোড়া, সহজে যে দেয়না ধরা

আব্দুল করিম বুদ্ধি হারা

ঘর থুইয়া বাইরে ঘুরায়।

 

- পড়শী প্রতিবেদন

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.