Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যা আশ্বিন ১৪১৬ •  9th  year  6th  issue  Sept-Oct  2009 পুরনো সংখ্যা
বাউল গানের তিন দশক - একটি ব্যক্তিগত মূল্যায়ন Download PDF version
 

বাউল গান ও সুফিবাদ

বাউল গানের তিন দশক - একটি ব্যক্তিগত মূল্যায়ন

জাকিয়া আফরিন

আমাদের ছেলেবেলায় বাউল গান ছিল বাংলাদেশের হৃৎস্পন্দন। ফরিদা পারভীন, মুস্তফা জামান আব্বাসী, ইন্দ্রমোহন রাজবংশ এদের কন্ঠে পরিচয় পল্লীগানের মনিমুক্তোর সঙ্গে। মিলন হবে কত দিনে শুনতে শুনতে লালন গানে যে মুগ্ধতার জন্ম, দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিস্ময়। নব্বই দশকের প্রথম দিকে শিমুল ইউসুফের কন্ঠে লালনের গান শুনে নতুন এক মাত্রা পেল আমার মুগ্ধতা ও বিস্ময়। কে তোমার আর যাবে সাথে / কোথায় রবে ভাই বন্ধুগণ পড়বি যেদিন কালের হাতে কালের অমোঘ দর্শন যেন ছত্রে ছত্রে। শিল্পীর গুরু (খুব সম্ভবত সুধীন দাশ) কলকাতা ভিত্তিক হওয়ায় সুর একেবারে ভিন্ন। তবে সুরের কারণেই কিনা এমনভাবে মর্মে পরশ বোলায়নিতো কোন গান

চাতক স্বভাব না হলে

অমৃত মেঘের বাণী

শুধু কথায় কি মেলে

লালন গীতি তখন আমার চিন্তায় ও মননে। একটিমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল ও কয়েকঘন্টার অনুষ্ঠানে বাউল গান কখনো আকর্ষণীয় সময়ে প্রচারিত হয়েছে এমনটা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্ধ্যা ৭ টার দিকে হতো তাই লেখাপড়ায় ব্যস্ত তরুন-তরুনী সেই গান কতটা শুনেছে তা চিন্তার বিষয়।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি যখন বিশ্বায়নের হাওয়া লাগল বাংলাদেশে, তার পরের কয়েক বছর বাউল গানের অন্ধকার যুগ। হিন্দী ধুমধাড়াক্কা আর এমটিভির অশ্লীল বন্যায় বাংলা গানের তখন হাসফাস অবস্থা। দুএকটা উল্লেখ করার মত ঘটনা অবশ্যই ঘটেছে। ফিড্ ব্যাকের সঙ্গে রহমন বয়াতীর যুগলবন্দীতে মন আমার দেহঘড়ি সন্ধান করি / কোন মিস্তরী বানাইয়াছে তারুণ্যের একনম্বর পছন্দের তালিকায় ছিল বেশ ক মাস। ফরিদা পারভীন কি এসময় জড়িয়ে পড়লেন পারিবারিক দ্বন্দ্বে! তাকে দেখা গেলনা হারমোনিয়াম হাতে অনেক দিন। বাউল গানের সুন্দরীতমা চাঁদ ঢাকা পড়ে রইল অপসংস্কৃতির কালো মেঘে।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের সময় লেগেছে বেশ কবছর। তবে যে নতুন রূপে বাউল গানের প্রকাশ ঘটল একবিংশ শতাব্দীতে তার সঙ্গে তুলনা চলেনা আগেকার কোন সময়েরই। বাংলা নামের এক গানের দল লালনগীতিকে পৌছে দিল অত্যাধুনিক ইংরেজী পড়ুয়া তরুনের ঘরে।

আনুশেহ্ র উদাত্ত কন্ঠের সেই আহবান আমার কানে বাজে এখনও -

আমি অপার হয়ে বসে আছি

বাংলা ব্যাণ্ড

 
ওহে দয়াময়

পাড়ে লয়ে যাও আমায়

বাংলা দলের কিংকর্তব্যবিমূঢ়-এর রেশ তখনও রয়েছে গানের জগতে আবির্ভূত এক তরুন নাবিক। নিতান্তই শখের বশে আধুনিক সরন্জামের সঙ্গে করা সিলেট অঞ্চলের বাউল গান তিনি নিয়ে এলেন শহরবাসীর মনোযোগে। জীবনের প্রায় সমস্তটুকু যে জীবন্ত কিংবদন্তী বাউল পার করে দিয়েছেন অবহেলায়, স্বীকৃতির অভাবে, সেই শাহ আব্দুল করিমকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন হাবিব ওয়াহিদ। গাইলেন -

গান গাই আমার মনরে বুঝাই

মন থাকে পাগল পারা

আর কিছু চায়না মনে গান ছাড়া

হাবিবের অভাবনীয় জনপ্রিয়তার পর থেকে বাংলাদেশের গানের ভবনে বাউল গানের জয়জয়কার। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ভুলে যাওয়া গান ফিরে আসছে নতুন মোড়কে। তবে এর সবটুকুকে ভাল বলার অবকাশ নেই। বাউল গানের ছদ্মবেশে অশ্লীল কুরুচিপুর্ণ গানের অভাব নেই। শুনেছিলাম মমতাজ বাংলাদেশের সর্বাধিক বিক্রয়কৃত শিল্পীদের একজন তবে গান শুনে শুনে বুঝতে বাকী রইলো না তার গান আসলে বিকৃত

নতনদের গাওয়া লালনের গান ভাল গেয়েছেন নবনীতা চৌধুরী -

সময় লেগে সাধন হবে না

দিন থাকিতে দিনের কার্য

কেন করলে না

একসময়ে আমার সহকর্মী এই ছোট বোনের গান শুনে এখনো আমার অনেক সন্ধ্য উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই বাংলা গানের দল তৈরী করেছে তাদের দ্বিতীয় আয়োজন প্রত্যুপন্নমতিত্ব বাউলদের সঙ্গে কথোপকথনের সঙ্গে তারা জুড়ে দিয়েছে দারুন সব গান। জন লেনের ‘imagine’ গানটি শুনে যে তরুনের মনে মানব সমাজের প্রতি নতুন ভক্তি সৃষ্টি হয়, আনুশেহর কন্ঠে লালনের

এমন মানব সমাজ

কবে গো সৃজন হবে

যে দিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃষ্টান

জাতি গোত্র নাহি রবে

এই গানে তার হৃদয়ে দোলা লাগবে বই কি।

লালনের এই গানে অগণিত বাউলের এই দর্শন বাঙালির হৃদয়ে পাকা আসনে আসীন। তাই তো বিভিন্ন গানের প্রতিযোগিতায় ঘুরে ফিরে সেই লালনগীতির শিল্পীর দিকেই আমাদের দৃষ্টি যায়। জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরাও তাই সুযোগ পেলে আশ্রয় নেন লালনগীতির আঁচলে। এই প্রজন্মের অসাধার মেধাবী শিল্পী সায়ান একে ব্যঙ্গ করে বলেছেন

আছে তোমার লালন ঘোড়া

জোর তাহার ঘাড়ে

লালন তোমার চালাবে পেট

অভাবের বাজারে

বাউল রত্ম লালন তাই বাঙালির মানসে ছিলেন, থাকবেন। ষাটের দশকে রবীন্দ্রনাথের গান নিষেধ করায় যেভাবে জেগে উঠেছিল বাঙালি, সম্প্রতি ঢাকায় লালন শাহের মুর্তি ধ্বংসের পর তার পুনরাবৃত্তি দেখেছি আমরা। বাঙালির বাউলকে কেউ হৃদয়চ্যত করতে পারবে না। চব্বিশ ঘন্টার টিভি চ্যানেলগুলো যত আবর্জনাই উৎপাদন করুক, গানকে পৌছে দিচ্ছে তরুন মানসে শুধু এই কারণে এদের সহ্য করা যায়। আলোর আশায় জানালা খুলে ধুলো বালি তো গায়ে লাগবেই! লালন বেচে থাকুন বাঙালি মানসে। বাউল সৃষ্টি আমাদের রক্ষা করুক সাম্প্রদায়িকতা থেকে আর ধন সম্পদের অহংকার থেকে। লালনের ভাষায় বলতে হয় -

শোনায়ে লোভের বুলি

নেবে না কেউ কাধের ঝুলি

ইতর আতরাফ বলি

রে ঠেলে নাহি দেবে

এমন মানব সামাজ কবে গো সৃজন হবে

২০ আগষ্ট, ২০০৯

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.