Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
বঙ্গ সম্মেলনের টুকিটাকি Download PDF version
 

উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড

 

বঙ্গ সম্মেলনের টুকিটাকি

গত ২রা থেকে ৪ঠা জুলাই সংঘটিত হলো নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স বা সহজ বাংলায় বঙ্গ সম্মেলন ২০০৯। বলা যেতে পারে নর্থ আমেরিকার বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এটি সবচেয়ে বড় বার্ষিক সম্মেলন যা পশ্চিম বাংলা (ভারত) ও বাংলাদেশী উভয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। এবারের বঙ্গ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো স্যান ফ্র্যানসিসকো বে এরিয়ার সিলিকন ভ্যালীখ্যাত স্যান হোজে শহরে। আমি দর্শক হিসাবে অনুষ্ঠানের তিনদিনই বঙ্গ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম। বঙ্গ সম্মেলনের অনুষ্ঠানমালা ও আয়োজনের কথা অনেকেই হয়তো বিশদভাবে লিখবেন। আমি শুধু টুকিটাকি বিষয়গুলি ছুঁয়ে যাবো।

তোমার দেখা নাইরে, তোমার দেখা নাইঃ

পাঠক, আপনাদের অনেকেই হয়তো জানা এটি পশ্চিম বাংলার ব্যান্ড ভুমির জনপ্রিয় একটি গান। বঙ্গ সম্মেলনের প্রথম দিন অর্থাৎ ২রা জুলাই রাতের সর্বশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল মাইলস্ এর নাম। যারা বাংলা ব্যান্ডের গান শোনেন, তারা মোটামুটি সবাই মাইলস্ এর সাথে পরিচিত। চাদ-তারা, সূর্য্য নও তুমি--- ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে........... কিংবা শান্তি নাই, শান্তি নাই... আজও অনেকের গলায় শোনা যায়। মাইলস্ কে মোটামুটি রক ব্যান্ড বলা যায়। আমি মাইলস্-এর অ্যালবামগুলো বহুবার শুনেছি এবং তাদের অনেক গান আমার কন্ঠস্থ। কিন্তু মাইলস্ কে লাইভ পারফর্ম করতে কখনো দেখিনি। কাজেই বিপুল উৎসাহে আমি (এবং আমার সাথে আরো হাজার দুয়েক মানুষ) অডিটরিয়ামের দিকে রওয়ানা দিলাম এবং কনসার্ট শুরু হবার আশায় বসে রইলাম। কিন্তু রাত বারোটা বেজে গেলেও মাইলস্ এলোনা। এক পর্যায়ে দেখি অন্য একটি দল গিটার, ড্রামস-কিবোর্ডে টুংটাং করে অনুষ্ঠান শুরু করবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক পর্যায়ে তারা গানও শুরু করলো। আমি অবাক হয়ে দেখলাম মাইলস্ এর বদলে গাইছেন অঞ্জন দত্ত ও তার দল। গুজবে শোনা গেল মাইলস্ যুক্তরাষ্ট্রে আসার ভিসা পায়নি। এই খবরটা উদ্যোক্তাদের নিশ্চয়ই জানা ছিল। তবে শেষ দিন পর্যন্ত কেন ওয়েবসাইট তথা অনুষ্ঠানসূচীতে মাইলস্ এর নাম লেখা ছিল?

লেখক ত্রয়ীঃ সুনীল, সমরেশ ও হুমায়ুন

বাংলা সাহিত্যের তিন দিক্ পাল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার ও হুমায়ূন আহমেদকে একই সাথে পাওয়া সত্যিই খুব ভাগ্যের ব্যাপার। বঙ্গ সম্মেলনের আয়োজকদের ধন্যবাদ তারা এই তিনজনকে একত্রিত করতে পেরেছেন। লেখকদের ফোরামে লোক আসেনা, এই কথাকে ভুল প্রমাণ করে প্রতিটি ফোরাম বা আলোচনা সভাতেই ঘরভর্তি মানুষ ছিল। স্থানাভাবে অনেকে মেঝেতে বসেছেন, অনেকে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। প্রিয় লেখকের মুখের কথা শুনতে পারাটা পাঠকের কাছে অনেক বড় ব্যাপার। শুরুতে হুমায়ূন আহমেদ অভিমান ভরে বলেছিলেন তাঁকে তেমন কেউ চিনতে পারছে না। কই অটোগ্রাফ শিকারীদের কাউকে তো দেখা গেল না। কিন্তু তিনদিনের অনুষ্ঠানশেষে তাঁর এই ক্ষোভ নিশ্চয়ই দূর হয়েছে। প্রতিটি ফোরামের পরেই তাঁকে ঘিরে ছিল বহু অটোগ্রাফশিকারী ও ছবি তুলতে চাওয়া ভক্ত।

সবশেষে একটি কথা না বললেই নয়। এত বড় আয়োজনে বই এর স্টল ছিল মাত্র একটি। নিউইয়র্ক থেকে মুক্তধারা এসেছিল প্রচুর বই নিয়ে। সেই সাথে গানের সিডি, ভিসিডি এসবতো আছেই। মুক্তধারার স্থাপক ও কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহার সাথে কথা হলো। নব্বই এর দশক থেকে এ পর্যন্ত সমস্ত উত্তর আমেরিকায় বাংলা বই এর চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে মুক্তধারা। এজন্য বিশ্বজিৎ সাহা ও মুক্তধারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাবেন।

খাওয়া দাওয়াঃ

এবারের বঙ্গ সম্মেলনে প্রায় সাত হাজার মানুষ এসেছিলেন। এত লোকের জন্য খাবারের স্টল খুব বেশী ছিল না। হাতে গোনা দুটি কি তিনটি। আয়োজকরা meal plan এর ব্যবস্থা অবশ্যই করেছিলেন। কিন্তু সেখানে খেতে গিয়ে রীতিমত কান্না পাচ্ছিল। আলু গোস্ত, রুই এর কালিয়া, মাছের কাটলেট বলে যা পরিবেশিত হচ্ছিল তা মূল খাবারের স্বাদ থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। এত বড় একটা আয়োজন, এত লোকের সমাগম, সেখানে খাবার অবশ্যই ভাল হওয়া দরকার ছিল। আমি নিজে বে এরিয়াতে থাকি। আমি জানি স্যান হোজের বহু রেস্টুরেন্টে এর চেয়ে ভাল খাবার পাওয়া যায়। কোন রেস্টুরেন্ট খাবার ক্যাটারিং করেছিল তা জানতে পারিনি। জানলে আমি অবশ্যই আপনাকে বলতাম, পাঠক, ঐখানে যেয়ো নাকো তুমিখেয়ো নাকো খাবার ঐ দোকান থেকে।

বঙ্গ সম্মেলন কি শুধুই বাঙালির নাকি বাংলাদেশীরও?

আমার কাছে সঠিক সংখ্যা বা পরিসংখ্যান নেই। তবে আমি বলতে পারি এবারের বঙ্গ সম্মেলনের ৮০% মানুষই ছিলেন পশ্চিম বঙ্গীঁয়। এমন নয় যে, বে এরিয়াতে বাংলাদেশী মানুষ নেই। তারা আছেন এবং সে সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। তাহলে কেন তাদেরকে দেখতে পেলাম না? বঙ্গ সম্মেলন তো সকল বাংলা ভাষা ভাষীর মিলন মেলা, তাহলে বাংলাদেশীরা সংখ্যায় এত অপ্রতুল কেন? চাঁদ রাতেও (ঈদের আগের রাত) আমি চাঁদনী বা মেহরানে এরচেয়ে বেশী বাংলাদেশীদের দেখেছি। আমাদের সন্তানেরা, যারা দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি তাদের জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান অনেক বড় একটা ব্যাপার। একসঙ্গে এত দেশের লোক ও দেশীয় শিল্পীদের দেখতে পাওয়া, তাদের সাথে পরিচিত হওয়া, সর্বোপরি বাংলা সংস্কৃতিতে ‘exposed’ হওয়া নিশ্চয়ই তাদের মনোজগতে বাঙালি হতে একটু হলেও সাহায্য করে। এত এত শাড়ি গয়না, রিয়েল এস্টেট এর স্টলের ভিড়ে আমি মাত্র দুটি বাংলাদেশী স্টল দেখেছি। একটি বই এর স্টল মুক্তধারা, অন্যটি ঢাকা আর্টস্ নামক একটি টি-শার্টের দোকান।

শানের শা-আ-আ ন

শান্তুনু ব্যানার্জী বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক বর্তমানে তিনি শান নামেই বেশী জনপ্রিয়। শেষদিন অর্থাৎ ৪ঠা জুলাই সর্বশেষ প্রোগ্রাম ছিল শানের গান। ধর্য্যের বাঁধ যখন ভাঙে তখন (১ ঘন্টা ৪০ মিনিট পরে) তিনি এলেন। তার গান ও পরিবেশনা অবশ্যই খুব ভালো হয়েছিল । কিন্তু আমি সে সম্পর্কে লিখছি না। আমি লিখবো শানের গান শুরু হবার আগের নাটক সম্পর্কে। কনসার্ট হবার কথা সবচেয়ে বড় হল নব মঞ্চে’, যেখানে ৫/৬ হাজার লোক বসতে পারবে। দশটার অনুষ্ঠানের জন্য আটটা থেকেই জন সমাগম হতে শুরু করে। শেষ দিনের শেষ অনুষ্ঠান। কাজেই সবাই এই হলেই আসছেন। এক পর্যায়ে দেখা গেল সীট নিয়ে ঝগড়া ঝাটি, তর্ক বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।আমি আমার পুত্রকে নিয়ে ডিনার হলে খেতে গিয়েছি আমাদের সীট রক্ষার দায়িত্ব আমার ছোট বোনের হাতে দিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমাদের তিনটি সীট জুড়ে অপরিচিত এক ভদ্রমহিলা তার দুই শিশুকন্যা সহ বসে আছেন। আমার বোন তাকে যথেষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তিনি অনঢ়। ভদ্রমহিলার সাথে আমার নিম্নলিখিত কথা-বার্তা হলো!

কান্তা: excuse me, এগুলো আমাদের সীট।

মহিলা: তাতে কি? এখন আমরা বসেছি।

ক: কিন্তু আমরা আগে এসে বসেছি এবং আমাদের ব্যাগ ও ফ্যামিলির একজন এই সীটে ছিল।

ম: প্রচুর মানুষ হলের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। আপনারা ব্যাগ দিয়ে এভাবে সীট দখল করতে পারেন না।

ক: কিন্তু আমরা তো খেতে গিয়েছিলাম।

ম: আমি কি করবো? আর তো কোথাও জায়গা নেই।

 এই পর্যায়ে মহিলা কথা বন্ধ করে দিলেন ও সোজা স্টেজের দিকে তাকিয়ে রইলেন। আমি, আমার পুত্র ও স্বামী দাঁড়িয়ে আছি বোকার মত। না পেরে আমি বলে উঠলাম, তাহলে এক কাজ করি, আপনি সীটেই বসুন। আমরা বরং আপনার সামনে দাঁড়িয়েই থাকি। কি করা যাবে বলুন, আর তো কোথাও জায়গা নেই। এবার মহিলা চোখ মুখ লাল করে উঠে পড়লেন। সৌভাগ্যক্রমে (তার এবং আমার) দুই রো পরেই তার এক বান্ধবীর দেখা পেলেন এবং এই লিলি, এখানে বোস আহ্বানে সাঁড়া দিলেন।

আমি জ্ঞানত: কারো সাথে কখনো এত খারাপ ব্যাবহার করিনি তাও কিনা গান শোনার জন্য। অপরিচিত সেই ভদ্রমহিলা পড়শীর এই পাতা পড়বেন কিনা জানিনা। কিন্তু আজ এখানে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

যা কিছু ভালো লেগেছে

নৃত্যাঞ্চলের নাচ, রথীন্দ্রনাথ রায়ের গলায় লোকগীতি, লোপামুদ্রা ও শ্রীকান্তের রবীন্দ্রসঙ্গীত ও আধুনিক গান। শ্রীকান্তের গলা শুনলে মনে হয় যেন আমার কান আইসক্রিম খাচ্ছে। পাঠক আমাকে মাফ করবেন। এরচেয়ে ভালো উপমা মনে আসছে না। কিন্তু আসলেই কান ঠান্ডা হয়ে, প্রাণ ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। সৌগত গঙ্গোপাধ্যায় ও শুভজ্যোতি গুহের তবলা ও সরোদের দ্বৈত পরিবেশনা ছিল অনবদ্য। খায়রুল আনাম শাকিলকে টিভিতেই দেখেছি সারা জীবন। Live program  এ মনে হলো তিনি কত ভাল গান করেন। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বা রুনা লায়লার গান অসাধারণ এটা বলাই বাহুল্য।

বে এরিয়া বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ও পড়শীর সম্মিলিত পরিবেশনা চারাও খুব ভাল লেগেছে। কবি আবিদ আজাদের বিখ্যাত কবিতা চারার বৃন্দ আবৃত্তি ও তার সাথে নাচ ও গানের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার গল্পটা বলা দারুন হয়েছে।

পড়শীর মহিলা বিষয়ক বিভাগের সম্পাদক ড. জাকিয়া আফরিন এ্যামনিস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বে এরিয়ার অলাভজনক সংস্থা মৈত্রীনারিকা এই তিনটি সংস্থা নিয়ে উইমেন্স ফোরামের আয়োজন করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার নারী (বে এরিয়াতে বরবাসরত), যারা domestic violence এর শিকার তাদের সাহায্য করাই এই সংস্থাগুলোর কাজ। তার এই ফোরামটি খুব ভালো লেগেছে।

সবশেষে ছোট্ট একটি ঘটনা দিয়ে শেষ করছি। আমার ৪ বছরের পুত্র রুনা লায়লার কনসার্টের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিল (তখন রাত ১২:৪০)।  এক পর্যায়ে সে ঘুম থেকে উঠে বল্লো, মা, এই গানটা কি সুন্দর। (গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা........) বেশ ভালো গাচ্ছে

৪ বছরের পুত্রকে আমি বলিনি যিনি গাইছেন তিনি পাক-ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত শিল্পী রুনা লায়লা। আর তিনি গাইছেন তাঁর অসাধারণ শ্রুতিমধুর একটি গান। তবে মনে হলো এবারে বঙ্গ সম্মেলনে আসা সার্থক হলো।

ফারহানা আফরোজ কান্তা

মরগান হিল, ক্যালিফোর্নিয়া।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.