Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
বর্ণাঢ্য, বিতর্কিত, অবিস্মরণীয় বঙ্গ সম্মেলন ২০০৯ Download PDF version
 

উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড

 

বর্ণাঢ্য, বিতর্কিত, অবিস্মরণীয় বঙ্গ সম্মেলন ২০০৯

আশফাক স্বপন

 

(লেখকের নিবেদনপাঠক যদি অনুষ্ঠানের অনুপুংখ বিবরণ আশা করেন তাহলে হতাশ হবেন। বঙ্গ সম্মেলন কলেবরে এমনই বিশাল,যে একা একজনের পক্ষে এই বিশাল সাংস্কৃতিক যজ্ঞের বর্ণনা দিতে গেলে এত বড় বড় শিল্পীদের অনেকের ওপর সুবিচার করা সম্ভব হবে না, আবার সবার ওপর সুবিচার করতে গেলে লেখা এতই বড় হয়ে যাবে যে তাহলে হয়ত পাঠকের ধৈর্য্যের ওপর অত্যধিক অত্যাচার হয়ে যাবে। তার চাইতে ইংরেজীতে যাকে বলে impressionistic রচনা, অর্থাৎ কয়েকটি টুকরো টুকরো বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে সামগ্রিক অনুষ্ঠানের একটা আন্দাজ দেবার চেষ্টা করা হয়েছে।)

 

সত্যজিত রায়ের চারুলতা ছবিটি যারা দেখেছেন তাদের শেষ দৃশ্যের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। চারু আর তার স্বামী ভূপতির মাঝে অবিশ্বাস আর বেদনার দুর্লংঘ্য ব্যবধান, সেই ব্যবধান ঘোচাবার উদ্দেশ্যে চারু হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্ষোভ সত্ত্বেও ভূপতির মনটা খানিকটা নরম হয়ে এসেছে, সেও হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু।

ঠিক মিল হল কি না বোঝা গেল না কিন্তু শেষ পর্যন্ত। মিলতে গিয়ে মাঝ পথেই হাত দুটি পরস্পরের ছোঁওয়া পাবার আগেই চিত্রটি ফ্রিজশটে স্তব্ধ হয়ে গেল। দুটো হাত কখনো মিলবে কি? সে আমরা জানি না, তবে এখনও যে মিলতে গিয়েও ঠিক মেলেনি, সেটাই বেদনাদায়ক সত্যি কথা।

২৯তম উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনের আয়োজকরা মনোক্ষুণ্ণ হতে পারেন, কিন্তু বঙ্গ সম্মেলনে দুই বাংলার মিলনের যেই শুভ প্রচেষ্টা হয়েছিল, তাও একটা পর্যায়ে এসে এভাবেই থমকে গিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে অন্তত ক্ষুব্ধ বাংলাদেশীদের স্ফূট ও অস্ফূট উচ্চারণ থেকে সেরকমই মালুম হয়।

তবে তার আগে বলা প্রয়োজন যে আয়তনে-আয়োজনে-আড়ম্বরে এধরনের বাঙালীর অনুষ্ঠান স্বচক্ষে দেখার অভিজ্ঞতা কোন দিন ভোলার নয়, স্মৃতিতে অক্ষয় হয়ে থাকার মত সেই অভিজ্ঞতা। দোষ-ত্রুটি যাই থাকএবং ভুল ভ্রান্তি যে ছিল সে কথা কম বেশী সকলে স্বীকার করবেন শুধু এই আয়োজনটি করার জন্য উত্তর আমেরিকার বাঙালিদের চিরঋণী করে রাখলেন বে-এরিয়া প্রবাসী।

এত বিশাল আয়োজন, এত সব স্বনামধন্য শিল্পী শুধু মার্কিন মুলুক কেন, বিশ্বের আর কোথাও এমন আয়োজন হয় বল আমাদের জানা নেই। আর শুধু তো শিল্পী নয়, এত বাঙালিই বা বাংলার বাইরে পৃথিবীর আর কোথাও একত্র হন! আয়োজকদের হিসেবে মতে ৭,০০০-এর ওপর লোক হয়েছে বলে শুনলাম। ভাবা যায়!

এদেশে এধরনের আয়োজন সচরাচর পেশাদার সংস্থা করে থাকে, কিন্তু তার খরচের ধাক্কা সামাল দিয়ে প্রবেশ মূল্য কিছুতেই নাগালের মধ্যে রাখা যেত না।

চিত্রটি কল্পনা করুন। অনুষ্ঠানে গান গাইছেন শ্রীকান্ত আচার্য্য, বন্যা, রাঘব, রুনা লায়লা, কি শাকিল, নৃত্য পরিবেশন করছেন তনুশ্রী শঙ্করের দল কি বাংলাদেশের নৃত্যাঞ্চল, এদিকে বারান্দায় ঢুঁ মেরে দেখছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার আর হুমায়ুন আহমদ বসে চুটিয়ে আড্ডা মারছেন। ওদিকে ছবি নিয়ে এসেছেন গৌতম ঘোষ, অঞ্জন দত্ত, কোথাও বা কোন কক্ষে হচ্ছে ভূ-উষ্ণায়ন, বা গার্হস্থ্য হিংসা বা সমকামীদের অধিকার নিয়ে সেমিনার।

তিনটি প্রকাণ্ড মঞ্চ সব চাইতে ছোটটিরই আসন সংখ্যা সহস্রাধিকতাছাড়া ছবি দেখাবার, আলোচনার আলাদা কক্ষ তো রয়েছেই। মাঝখানে, যেখানে অসংখ্য লোক যাতায়াত করছেন মেয়েরা জমকাল শাড়ি পরেছেন, আর ছেলেরা তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাহারী পাঞ্জাবী ও পায়জামা বা কুচি দেওয়া ধুতি, পাশে সারি সারি অসংখ্য দোকানে নানান জিনিসের পসরা কোথাও বা বাংলা বই, কোথাও বা সিডি, কোথাও বা শাড়ি-গয়না, এছাড়া রয়েছে কলকাতা থেকে আগত রিয়েল এস্টেট, বা স্ত্রী শিক্ষায় আগ্রহী বিদ্যাসাগর ফাউণ্ডেশন মার্কিন মুলুকে এ দৃশ্য দেখলে বাংলাভাষী হিসেবে আপ্লুত না হয়ে পারা যায়?

এত বড় আয়োজনটা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে-সেটা যেমন বঙ্গ সম্মেলনের সব চেয়ে বড় গৌরব, আবার সেটা সম্মেলনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও বটে-সেটা এবার আবারো প্রমাণ হয়ে গেল।

অনুষ্ঠান শেষ হবার আগেই মঞ্চের নেপথ্যে তুমুল বিতণ্ডা, নানা দিকের অব্যবস্থার ব্যাপারে ক্ষোভ যেমন প্রকাশ পাচ্ছিল, তেমনি নানা দিক থেকে গুঞ্জন কানে আসছিল আগত শিল্পীরা অনেকেই ক্ষুব্ধ, সঠিকভাবে যত্ন আত্তি দূরে থাক, যথাযথ যন্ত্রী ও আনুষঙ্গিক সহায়তাও ঠিকুমত পাওয়া যায় নি, এমন অভিযোগও ঘন ঘন উঠেছে।

নানান বিষয়ে সীমাবদ্ধতা ও ভ্রান্তি সত্ত্বেও আবার এই স্বেচ্ছাশ্রমেরই একটা আলাদা মর্যাদা ছিল।

দেখুন, এত বড় আয়োজন-যেখানে এত শিল্পী আসেন,৭,০০০-এর মত লোক হয়,তিন দিন ধরে নানা ধরনের এত রকমের অনুষ্ঠান হয়,এমনটি আর কোথায় দেখতে পাওয়া যায়? চট করে আমার এদেশে মার্কিন পেশাদারী সম্মেলন ছাড়া আর কিছুই মনে পড়ছে না। সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখুন-লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পেশাদার অনুষ্ঠান আয়োজকদের ভাড়া করা হয়,তার পরও সেখানে নাটক,গান,মঞ্চের ঝামেলা নেই।

সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে এত বড় অনুষ্ঠান করা হয়, সেকথা শুনলে এদেশে যে কোন লোকের চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। গুটি কয়েক লোকের একটি দল কি প্রাণান্ত পরিশ্রম করেই না এত বড় যজ্ঞের আয়োজন করেন। দোষ গুণ যাই থাক, শুধু এই আয়োজনের জন্য আয়োজকদের একটা বিশেষ বাহবা পাওনা।

এই তো গেল ভাল দিক। কিন্তু স্বেচ্ছাশ্রমের একটা মন্দ দিকও রয়েছে। পেশাদারীত্বের অভাব, শৃংখলার শিথিলতা তো আছেই, তার ওপর এত বড় অনুষ্ঠানে যেখানে রীতিমত মিলিটারি ছকে বাঁধা পরিচালনা প্রয়োজন, সেটা অনেক সময়েই হয়ে ওঠে না। আরেকটা ব্যাপার যেটা হচ্ছে বলে আমার মনে হয় তাকে ফরাসীরা বলে déjà vu, অর্থাৎ একই জিনিস বার বার ঘটছে বলে মনে হয়।           

অনেকটা যেন আগেকার দিনের বিয়েবাড়ির মতবরযাত্রীর সাথে কনে পক্ষের এক চোট ঝগড়া না হলে যেমন ষোলকলা পূর্ণ হয়না,তেমনি প্রায় প্রতি বঙ্গ সম্মেলনে একই ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। শিল্পীদের ঠিক মত দেখা শোনা হল না,রেজিস্ট্রেশনে ঝামেলা, কার কাজ, কার দায়িত্ব সেটা সবসময় পরিষ্কার নয়, যার দায়িত্ব তার খোঁজ নেই, অন্য আরেক স্বেচ্ছাসেবী তিন দিক সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন এমনটি বার বার দেখা গেছে। এবার অবশ্য রেজিস্ট্রেশন নিয়ে গোলমাল তেমন হয়নি,তবে অন্যান্য নানান সমস্যা দেখা গেছে তার অনেকগুলো গৌন, তবে সবগুলো নয়।

আরেকটা ব্যাপারে বাঙালি চরিত্রের একটি অপ্রীতিকর দিক যেন প্রতি বঙ্গ সম্মেলনেই প্রকট হয়ে ওঠে তা হল মঞ্চে ওঠার প্রতিযোগিতা নিয়ে শুধু মনোমালিন্য নয়,তা প্রায় চুলোচুলির পর্যায়ে যাবার যোগাড় হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। বিশেষ করে অনুষ্ঠানের শেষ দিন কে মঞ্চে উঠবে না উঠবে সেটা নিয়ে তুমুল ঝগড়া হয়ে গেল নেপথ্যে ভাগ্য ভাল তা অভ্যাগত অতিথিরা দেখেনি।

দুই বাংলার মেলবন্ধন?

এক বছরেরও আগে থেকে বাংলাদেশী সমাজর সাথে উদ্যোক্তা সংস্থা প্রবাসীর পশ্চিম বঙ্গীয় আয়োজকরা যোগাযোগ করলেও অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশী আয়োজকের আনন্দের চাইতে ক্ষোভই বেশি ছিল বলে মনে হচ্ছে। অথচ কতবার একত্রে সভা হল, শিল্পীদের আনা-নেওয়া নিয়ে জল্পনা কল্পনা হল, কিন্তু সম্পর্কের উদার অভ্যুদয় হল না। মনোমালিন্য, ভুলবোঝাবুঝির রেশ রয়েই গেল।

এব্যাপারে আমি যে মত রাখব, তা হয়ত কোন কোন বাংলাদেশীর মনঃপুত হবে না। আমার মনে হয় দুই পক্ষেই দোষ রয়েছে। বাংলাদেশীদের ক্ষোভের যেটা সব চাইতে সঙ্গত কারণ রয়েছে সেটা হল অঙ্গীকার সত্ত্বেও বাবা ও পড়শীকে স্বীকৃতি দিতে দৃষ্টিকটু রকমের অনীহা। শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি যখন দেওয়া হল, তখন অনেক রাত হয়ে গেছে, তখন বার বার স্বীকৃতি দিলেও কি লাভ, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করা যেতেই পারে এই স্বীকৃতির বহর দেখে আমার ছাত্রজীবনের রসিক বয়োজ্যেষ্ঠ ভাইয়ের মন্তব্য মনে পড়ে গেল এ যেন প্রসূতির পেট চেপে বিকলাঙ্গ শিশু বের করা।

আচরণে একধরনের অভিমান মূল আয়োজকদের শুভবুদ্ধি সম্বন্ধে প্রশ্ন তোলে কি না, সেটা মেনে নিয়ে একথাও বলতে হয় যে বাংলাদেশীদের আশাও একটু বেশি ছিল। আমাদের নিজেদের অর্থবল আর বিশেষ করে নিজের সংস্কৃতির প্রতি আনুগত্য না বাড়লে আমাদের বার বার আশাভঙ্গ হবে। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই বঙ্গ সম্মেলনে কোন কোন বাংলাদেশী শিল্পীকে আনা হবে, এই ব্যাপারে পরামর্শ চেয়ে বে এরিয়া বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সকল সদস্যদের কাছে ইমেলে মতামত চেয়ে পাঠান হয়েছিল। সাকুল্যে উত্তর এসেছিল ছয় কি সাতটি। এই যখন আমাদের সংস্কৃতি প্রেমের নমুনা, তখন আমাদের আর বড় বড় কথা বলা সাজে না।

রবীন্দ্রনাথের সেই গানটা মনে আছে কি পাইনি, তার হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজী। হায়, আমরাতো আর কবিগুরুর মতো মহামানব নই আমাদের কিন্তু কি পাইনি তার হিসাব মেলেতেই বেশি আনন্দ। তবে আমি সেই কাজটা থেকে আপাতত ছুটি নিয়ে এবারের বঙ্গ সম্মেলনে কি কি ভাল লাগল তাই নিয়ে দুচার কথা বলব।

কিছু ভাল লাগা

সব অনুষ্ঠান কেন,অধিকাংশ অনুষ্ঠান দেখা সম্ভব হয়নি,তা সম্ভবও নয়। নিজে যা টুক টাক দেখেছি তার থেকে কিছু ভাল লাগার কথা লিখছি।

আয়োজকদের ওপর বাংলাদেশী সহযোগীরা যতই গোস্যা করুন, এবারে বাংলাদেশের উপস্থিতি মঞ্চে এবং দর্শকসারিতে  খুব উজ্জ্বল ছিল। রুনা লায়লা কয়েক হাজার দর্শকদের যেভাবে মাতালেন সেটা যেমন লক্ষণীয়, আবার বাংলা গানের তিনটি মূল শাখায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুল গীতি আর লোকগীতিতে কি দাপটের সাথেই না বন্যা, শাকিল আর রথীন্দ্রনাথ রায় গান গেয়ে গেলেন। শেষ দুজনের সময় দর্শক সমাগম আরো বেশি হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিলকোথায় ছিলেন বাংলাদেশীরা?

আমি নিজে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সমঝদার নই, কিন্তু শাকিল আমাকে বলল শহিদ পারভেজ খাঁর সেতার বাদন ওকে মুগ্ধ করেছে। ওর মতে শহিদ দ্রুত বিলায়াত খাঁর মত বড় মাপের শিল্পী হয়ে উঠছে।

আম জনতাকে অবশ্য স্তব্ধ করে দিয়েছে অন্বেষা। একরত্তি মেয়ে,কি দাপটের সাথেই না লতা মুঙ্গেশকরের গান গাইল। শুধু গাইল না,মঞ্চে অপূর্ব স্বচ্ছন্দ তার উপস্থিতি। এই শিল্পী যে একদিন খুব বড় হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই, আর বঙ্গ সম্মেলনের আয়োজকদের বিশেষ অভিনন্দন দর্শকদের এর গান শোনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বেশ জমকাল আয়োজন হলেও পরে তনুশ্রী শঙ্করের দলের নৃত্য আমার বেশি ভাল লেগেছে। রাঘবের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও আধুনিক সঙ্গীতের fusion ভাল লেগেছে, আর শ্রীকান্ত আর লোপামুদ্রার যৌথ সঙ্গীত ভাল লেগেছে।

মঞ্চ সজ্জায় সব চেয়ে বড় মঞ্চে আড়ম্বর ছিল সব চেয়ে বেশি, আলোর কাজও ছিল চোখ ধাঁধান। তবে আমার অনেক বেশি ভাল লেগেছে দ্বিতীয় মঞ্চের সাজ সজ্জা, বিশেষ করে পট আঙ্গিকের অলঙ্করন ভারি দৃষ্টিনন্দন ছিল।

যা ভাল লাগে নি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একটু দীর্ঘ হলেও সব মিলিয়ে ভালই লেগেছে, তবে তার আগে এত গুচ্ছের বক্তৃতা দেবার বুদ্ধিটা কার উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত, জানতে ইচ্ছে হয়। একের পর এক পাতি রাজনীতিকরা বাজে বকে গেলেন, এর কি কোন প্রয়োজন ছিল?

আর সমাপনী অনুষ্ঠানে crowd control এর ব্যাপারে আরো যত্নবান হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। আর একটা কথা প্রতিবার এত কথা, এত চেষ্টার পরও কেন অনুষ্ঠান কিছুতেই সময় অনুযায়ী করা যায় না?

উপসংহার

আমার মনে হয় বঙ্গ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্বন্ধে নতুন চিন্তা ভাবনা করার সময় এসেছে। মানছি কয়েক হাজার লোক আসে অনুষ্ঠানে, কিন্তু এত অনুষ্ঠান আয়োজন করা কি যথার্থ? ইংরেজিতে একে বলে overkill। এতে সকলের সব কিছু দেখা বা শোনা সম্ভব হয় না, সেটা না হয় মানা গেল, কিন্তু কখনো কখনো শিল্পীদেরও তো অসম্মান হয়।

তার মধ্যে আড্ডা সামাজিকতা তো আছেই, তাতে শিল্প সংস্কৃতি চর্চার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। আসলে এত বড় আয়তনে বঙ্গ সম্মেলন আয়োজন কি যথার্থ সংস্কৃতি প্রেমের পরিচয় বহন করে, নাকি এটা আসলে একে অপরকে টেক্কা দেবার চেষ্টা, সেই সংশয় কিন্তু খানিকটা থেকেই যায়। পুরো ব্যাপারটার মধ্যে একটু খানি দেখানেপনা আছে কি না সেটা আয়োজকরা একটু ভেবে দেখতে পারেন। তবে সীমাবদ্ধতা যাই থাক, এই বিশাল আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রাণঢালা অভিনন্দন দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করলে সেটা খুবই অন্যায় হবে।

ছবি : শরীফ আহমেদ

বঙ্গ সম্মেলনের আরো ছবি :

প্রথম দিন : http://www.flickr.com/photos/ahmedsha2004/sets/72157621318390554/show/

দ্বিতীয় দিন : http://www.flickr.com/photos/ahmedsha2004/sets/72157621162069696/show/

দ্বিতীয় দিন (ফ্যাশন শো) : http://www.flickr.com/photos/ahmedsha2004/sets/72157621037688405/show/

তৃতীয় তিন : http://www.flickr.com/photos/ahmedsha2004/sets/72157621233285398/show/

 

মন্তব্য:
erewre   May 27, 2016
Ralph Lauren is an American fashion designer known for Ralph Lauren Polo his popular Polo line and other lines of clothing, accessories and home decor. Founded in 1967 and initially offering a line of men's ties, the company grew quickly in a short time and had its own boutique within department store Bloomingdale's by 1969, and its own stand-alone store in Beverly Hills by 1971. Ralph Lauren Sweaters first womenswear line was launched that same year. The brand became a staple of the preppy style popular in the late 1970s and early 1980s. The Ralph Lauren brand has expanded from Ralph Lauren Pants to include Purple Label, Black Label, Blue Label, Polo Ralph Lauren, Polo Denim, Polo Golf, Ralph by Ralph Lauren, Rugby Ralph Lauren and the women's lines Collection, Black Label, Blue Label, Lauren by Ralph Lauren, Ralph Lauren Golf , and Ralph Lauren Short Sleeved Polos Spanning the range from casual sportswear to formal wear, the company's clothing and fragrances reflect a classic American style, and often impart a rugged, outdoorsy Ralph Lauren Jackets & Outerwear . Many garments and fragrances incorporate a logo with a pony, with or without a polo player astride. Ralph Lauren Polo partnered with Ralph Lauren Handbags to introduce fragrances, beginning with iconic men's scent Polo and classic women's fragrance Lauren in 1978. The next two scents in the line, Chaps for Men and Tuxedo for Women, both introduced in 1979, also became beloved classics.
   December 27, 2009

rahul dev   November 21, 2009
valo laglo. onek din thekei site ti dekhar chesta korchilam. ami barak vally te thaki. cultaral activist.
Dipanwita Sengupta   July 29, 2009
Photo gulo bhishob shundar ... Ekta request apnader kache ki --- Day 2: Rabindrasangeet-er shonge Kathak korechilen Guru Bandaan Sen and Suchandra Banerjee Day 3: Suchandra Banerjee-r solo Kathak Ei gulo ki ache ? Thanks, Dipanwita
Mushfeque Manzur   July 20, 2009
There are no photos in the 2 links for Day @ of NABC.
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.