Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সম্পাদকীয়  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
বঙ্গ সম্মেলন ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা Download PDF version
 

সম্পাদকীয়

 

বঙ্গ সম্মেলন ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

 

গত ৪টা জুলাই-এর উইকেন্ডে আমাদের শহরে, অর্থা ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোজে শহরে, হয়ে গেল জমজমাট ২৯তম বঙ্গ সম্মেলন। এ সম্মলনে পড়শী, স্থানীয় বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ‌বাবা-এর সহযোগিতায়, পরিবেশন করলো একটি গীতি-নৃত্যনাট্য। কবি আবিদ আজাদের কবিতা চারা অবলম্বনে এই গীতি-নৃত্যনাট্য ছিলো বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের গাঁথা- আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান আর নৃত্যের সমন্বয়ে। বেশি নয়, মঞ্চে মাত্র চল্লিশ মিনিটের পরিবেশনা তারই প্রস্তুতিতে কত সময়, কত পরিশ্রম, কত পরিকল্পনা। দর্শক, যারা অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন, কেউ আন্তরিক প্রশংসা করলেন, কেউ ভদ্রতা করে ভালো বললেন, দুচারজন সমালোচনাও করলেন এসবই প্রত্যাশিত। কিন্তু এই ছোট্ট একটি অনুষ্ঠানের পেছনেও যে কতখানি পরিকল্পনা ও পরিশ্রম দরকার হয়- তা যারা কাছে থেকে দেখেছেন, কেবল তারাই অনুধাবন করেছেন। এক ভদ্রলোক রসিকতা করে বলেছিলেন, আপনাদের এত খাটা-খাটুনি দেখেই আমি টায়ার্ড ফিল করছি। পড়শীর এই অনুষ্ঠান অভূতপূর্ব কিছু নয়, প্রবাসের সম্মেলনগুলোতে এমন অনুষ্ঠান অনেকই হয়, এবং আয়োজকরা অনেক পরিকল্পনা-পরিশ্রম করেই প্রতিটি অনুষ্ঠান দাঁড় করান। উদাহরণটি টানা এই জন্যে যে পড়শীর ছোট্ট অনুষ্ঠানের তুলনায় বঙ্গ সম্মেলন এক মহা আয়োজন। সেই আয়োজনকে সার্থক এবং সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলতে কি ধরনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা, অর্থ এবং শ্রম প্রয়োজন- তা কাছে থেকে না দেখলে কল্পনা করা মুশকিল। এবারের বঙ্গ সম্মেলন স্যান হোজেতে হবার সুবাদে, ভেতর থেকে না হলেও কাছে থেকে এ আয়োজনের কিছু বিষয় দেখার সুযোগ হয়েছে। সেই সুবাদে বলব, এমন পরিসরের একটি আয়োজন শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে দাঁড় করানো- অন্য কিছু না হলেও শুধু এই সাফল্যের জন্যই আয়োজকদের (স্বাগতিক সংগঠন বে-এরিয়া প্রবাসী) ধন্যবাদ প্রাপ্য। এজন্য পড়শীর পক্ষ থেকে ২৯তম বঙ্গ সম্মেলনের আয়োজক-স্বেচ্ছাসেবক সকলকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন।

কিন্তু অভিনন্দনই শেষ কথা নয়! তারপরও কথা থেকে যায়। দর্শকদের প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তি নিয়ে কথা। প্রতি বছরই সম্মেলন শেষে এমন মন্তব্য কানে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি বঙ্গ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছে লস এঞ্জেলেসের ২৩তম, নিউ ইয়র্কের ২৫তম এবং স্যান হোজের ২৯তম সম্মেলন। প্রতিবারই দেখেছি- সম্মেলনের স্কোপ বা পরিসর এত বড় হয়ে গেছে যে শুধুমাত্র ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে একে সামাল দেয়া যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক তারা ভালো অনুষ্ঠান দেখতে চান, সময়মত অনুষ্ঠান দেখতে চান, বসার জন্য আসন চান, খাবার জন্য বাঙালি খাবার চান, সুশৃঙ্খল পরিবেশ চান। শিল্পী যারা আসেন অনুষ্ঠান করতে, তাদের প্রত্যাশা পেশাদারী ব্যবস্থাপনা- সময়মত অনুষ্ঠান করতে চাই, ভালো মঞ্চ চাই, আলো চাই, শব্দ চাই, আপ্যায়ন চাই, আতিথেয়তা চাই। এই চাওয়া-পাওয়ার হিসেব মেলে না অনেকক্ষেত্রেই। এই তিন বঙ্গ সম্মেলন দেখে, দর্শক ও শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে এবং এবারের সম্মেলনে কিছু জিনিষ খুব কাছে থেকে দেখে মনে হয়েছে আগামীতে বঙ্গ সম্মেলনের উদ্যোক্তাদের এ নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবা প্রয়োজন।

শুনেছি বঙ্গ সম্মেলনের বাজেট মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এদেশে (আজকাল বাংলাদেশ-ভারতেও) এ ধরনের আয়োজনের জন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার সাহায্য নেয়া হয়। এরা পেশাধারী সংস্থা- বড় পরিসরের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, আয়োজন, ও ব্যবস্থাপনাই এদের পেশা। এমন ধরনের সংস্থার সাহায্য নেয়ার কথা ভাবা দরকার। দেশ থেকে লম্বা লিস্টি ধরে শিল্পী না এনে সেই অর্থের সামান্য হলেও ইভেন্ট ম্যানজমেন্টে ব্যয় করা যেতে পারে। আমাদের মতে একটি সুশৃঙ্খল, ওয়েল ম্যানেজড ইভেন্ট লাগাতার অনুষ্ঠানের চাইতে দশর্কদের কাছে বেশি প্রত্যাশিত।

আরো একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। বঙ্গ সম্মেলন প্রবাসে বাঙালিদের সবচেয়ে বড় সম্মিলন। এমনি আয়োজনে বিশ্বের বাঙালিরা একত্রিত হবেন বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও উসবে- এটাই প্রত্যাশিত। এই বাঙালি বাংলাদেশের, পশ্চিম বঙ্গের, কি লন্ডনের সেটা বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। বিশ্বের বাঙালিদের অংশগ্রহণে এই সম্মেলন হয়ে উঠতে পারে বিশ্ববাঙালির মিলনমেলা। কিন্তু কার্যত: দেখা যায়- এ সম্মেলন পশ্চিম বঙ্গ থেকে আগত প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগ-উসব। বাংলাদেশী প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করেন না, তা নয়। কিন্তু বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ যেন দ্বিধান্বিত, দূর থেকে ‌অতিথির মত, পার্টনারের মত নয়। কি কারণ, সে আলোচনায় মহা তর্ক বেধে যেতে পারে- দুপক্ষই আঙুল তুলে হয়ত বলবেন ‘তোমার দোষ’। তাহলেও এই আলোচনাটা হওয়া প্রয়োজন- কিভাবে বাংলাদেশীদের বঙ্গ সম্মেলনে অন্যতম পার্টনার হিসেবে পাওয়া যায়। বঙ্গ সম্মেলনের স্বাগতিক সংগঠন সেই বছরের সম্মেলন পরিকল্পনা নিয়েই ট্যাক্টিকেলী ব্যস্ত থাকেন। তাই বাংলাদেশীদের শরীক করার এই স্ট্র্যাটেজিক উদ্যোগটি, আমাদের মতে, NABC-এর উদ্যোক্তা সংগঠন CAB (Cultural Association of Bengal)-এর উপর বর্তায়। নিয়মতন্ত্র ও বিধিমালায় আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন আনা যেতে পারে যাতে প্রতি বছরই মূল স্বাগতিক সংগঠন স্থানীয় বাংলাদেশী সংগঠনগুলোর সঙ্গে পার্টনার হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে করে বঙ্গ সম্মেলন সত্যিকার বিশ্ব বাঙালির সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা।

 

 

মাহমুদুল হাসান

জুলাই ১২, ২০০৯।

স্যান হোজে, ক্যালিফোর্নিয়া।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.