Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
দুবাই’র মিলিওনেয়ার ভ্রাতাদের স্লামডগ কারা? Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

 

বিলেতের স্ন্যাপশট

দুবাইর মিলিওনেয়ার ভ্রাতাদের স্লামডগ কারা?

শামীম আজাদ

গ্লামার এর গ্লিটার যারা,জানালায় যে তারা সবচেয়ে জ্বল জ্বল তারও খসে যেতে হয়- বিবিধ কারণে আর বিবিধ প্রযত্নেজ্যোৎস্না গলে গেলে তার আর  গ্লামার থাকেনাএখন ইংল্যান্ডের আকাশ থেকে খসে পড়বার সময় হয়েছে প্রাক্তন ক্রিকেট ক্যাপ্টেন অলরাউন্ডার সুনীল নয়নধারী এ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ও ফুটবলের ম্যাজিক বয় মাইকেল ওয়েন দুজনেরইনা ব্যপারটা খেলা নিয়ে নয়কথা নীতি নিয়েকথা ধর্ম নিয়েকথা মানুষের আচরণ নিয়ে

সম্প্রতি এরা দুজনই দুবাইর আকাশচূম্বী (উভয়ার্থেই) প্রকল্পের দূত হয়ে নিজেদের ধ্বসিয়ে দিয়েছেনকারণ কোটি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সমুদ্র মন্থনে যে বিলাশ বহুল আবাসগুলো নির্মাণ হচ্ছে সেইসব তাজমহলের তারা পাথরই দেখেছেনদেখেননি তাদের প্রাণতার অন্তরে কারা কাঁদিছে নেননি তাদের কোনো হিসাবআসলে ভেতরে যারা কাঁদিছে তারা সবাই তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতম প্রতারিত, নিগৃহিত মানুষওরা নিগৃহিত ছিল দেশে এখন বিদেশেওআর অদ্ভূত কথা হল তাদের রক্তের ফায়দা লুট করে (ফরেন কারেন্সিতে) দেশ চলছে,সংসদে বড় বড় কথা হচ্ছে,ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরণের লোভ দেখিয়ে আবার লতা কেটে দিচ্ছেন সাংসদেরা পাজেরোতে বসেই,কেনা হচ্ছে মিগ দেনা হচ্ছে অস্ত্রে আর অন্ত্রেআর এদিকে মুসলিম ব্রাদাররা আলখেল্লা চড়িয়ে আমাদের পিঠ চাপড়ে মুসলিমদের দাশ- শ্রমিক বানাচ্ছে তাদের রক্তে স্বেদে ইস্পাতের ইমারত পালিশ হচ্ছেতারা মরুতে মরুদ্যান করে মিলিওনেয়ার হচ্ছে আর পেছনে বানাচ্ছে স্লামডগ- বস্তির কুকুর

দুবাইর এ বস্তি আমাদের দেশের চেয়েও নিকৃষ্টএখানে দিন শেষে নেই প্রিয়তমার মুখ- সন্তানের লালা আর পাশের খোপ থেকে থেকে বন্ধুর  খেউরএখানে সাত আটজনের এক ঘরে বসবাসএখানে শোবার ঘর মানে একটি বিছানার ফ্রেমের ওপরে আরেকটি চাদরহীন ম্যাট্রেসটয়লেট,জলহীন দূগন্ধময় মশা,ইঁদুর আর তেলেপোকা বাঁচিয়ে কোনো মতে প্রাত্যহিকী সারারান্না খেলা আকাশের নিচে অথবা মুরগীর খুপরিত তুল্য ঘরে পারস্পরিক বোঝাপরার সময়ে রাঁধাতাদের স্লামএ কাঠের টুকরোয় বসে টিনের প্লেটে খাচ্ছেন চালরুটিডালের মিশ্রনে এক অদ্ভূত ঘন্টঅসুখ হলে কোনো ডাক্তার নেইদুর্ঘটনা হলে চিকিৎসা নেই,আত্মীয় স্বজনের কাছে ফোন করার স্বস্তা কোনো ব্যবস্থা নেইস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বোঝানোর কোনো নির্ভরযোগ্য শক্তিশালি ত্রিভাষিক প্রতিনিধিট্রেড উইনিয়ন এখানে বেআইনীএখানে সারা মাস খেটে তারা যা আয় করেন ( পাঁচ থেকে ছহাজার টাকার সমানযা থেকে তার খাওয়া দাওয়া আর বাঁচাই দায়) তা থেকে আবার দেশে পাঠানবুঝুন এবার কী করে আমরা আয় করি ১৭ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রাতাই বলে সকলেরই এ অবস্থা নাকিন্তু একজনেরই যদি হয়ে থাকে তা হবে কেনোআর এ অবস্থার শিকার শত শত ভারতীয় বাংলাদেশী পাকিস্তানী শ্রমিকেরসেটিই টিভিতে দেখলাম প্যানোরোমার গোপন ক্যামেরায়আর দুবাই ড্রিমের ে দেখলাম মাইকেল ওয়েন ও এ্যান্ডু ফিনটফ কিভাবে দুবাইর বেহস্ততুল্য বেশুমার সুরম্য অট্টালিকার গুন র্কীতন করছেন আমাদের আরো জানায় এখনই মাইকেলের মত চারহাজার তিনশ আটত্রিশ হাজার পাউন্ডে প্ল্যাট কিনলে তা ক্রেডিট ক্রাঞ্চের সময় পেরিয়ে গেলে এক মিলিয়ন ডলারের হয়ে যাবেআর বিনিয়োগের দিস ইস টি রাইট টাইম!

আমার কথা,এখানে আমরা কেন এসব ব্যাপরে কেবলি আমাদের এ্যাম্বেসীকে দোষ দিই? দিন আগে মালএশিয়ার ব্যাপারেও তাই হলহাই কমিশন বড় জোর একটা চিঠি লিখতে পারেনএটা এমনই ব্যাপার যে আমাদের মুসলমান ভাইদের সঙ্গে তাদের সুবিধামত চুক্তি হয়ে গেলে আমাদের সংসদ এমনকি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পক্ষেও কেবল উৎকন্ঠা প্রকাশ ও তদন্ত কমিটি গঠনের নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো অর্থপূণ ভূমিকা রাখা কঠিনতবে  শ্রম মন্ত্রনালয় পারেনসুদূর প্রসারী ইতিবাচক উদ্দোগ নিতে পারেন কেবল তারাইতাদেরতো জানার কথা বিদেশ মানেই ভালো স্যানিটেশন,সুপেয় পানীয়,স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আর ফল ও ফাগুন নয়স্থান বিশেষে এক লিটার জলের দামে দেশে দুবেলা দুপ্লেট ভাত আর ডাল কেনা যায়নেহায়েত আর্সেনিক তাড়িত এলাকা না হলে গ্রামের যেকোনো টিউবওয়েলের জল খেলে কোনো দাম দিতে হয়নাএখানে ছোট্ট এক প্যাকে শুকনো খেজুরের দামের কনামাত্র ভাগে বস্তির দোর গোড়ে ক্ষুদ্র দুটো বীজ পুতলে বিশাল কদু কুমড়ো হয়ে যায়এমন একটি দেশ থেকে তারা যখন লোক পাঠাচ্ছেন তাদের সে জীবন যে দেশের চেয়ে উত্তম হবেকি হবেনা তা যাচাই করবেননা?

কী ভাবে তার মান নিয়ন্ত্রন করবেন? তারা পারেন শ্রমিকের মূল দক্ষতার স্থান টুকু তার শক্তিটুকুতে টান মেরে ট্রেনিংএ আরো লম্বা করে দিতেপারেন পূর্ব শর্ত হিসেবে মৌখিক ভাষা শিক্ষা দিতেপারেন তার দ্বিতীয় তার স্কিল সনাক্ত করে বিভাগ বিভাজনঅথবা তাই থেকে ডাক্তার,দোভাষী,মাস্টার,নাপিত,পাঁচক এবং আইনী বিদ্যা জানা ব্যক্তি ও সর্বোপরি পরির্দশক- বেছে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে তবে প্লেনে ভরে দেয়াএবার আল্লার হাওলা! নিজেদের নিজেরাই দেখভাল করতে পারবেএটা হতে পারে চুক্তিতেইএর জন্য তাদের আয় থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করাটা অন্যায়ের কিছুনা

যাদের বৈদেশিক মুদ্রায় দেশ টিকে আছে তাদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাকি আমাদের দায়িত্ব নয়এটা করা কোনো কঠিন কাজ নাওরা মুসলমান ভাই(!)- ইসলাম কি বলে ভালো বুঝবেনঅন্যের সঙ্গে বেঈমানী করার রাস্তা বন্ধ করতে হবে ঐ মুসলিম নামের প্রকৃত ব্যাখায়ওদের নকল করে মরুভূমের পোশাক ও তাদের স্টাইলে মাথা মুখ বন্ধ করে বাংলাদেশের মত গরমের দেশেও  বিদেশী ফ্যাশনে নয়ধর্ম ঐ মুখ চোখ বান্ধাবান্ধি করে সেইফটি সিকিওরিটি বন্ধ করে হয়নাআমার জানতে প্রবল ইচ্ছা জানি- যারা নিজদেশ ত্যাজি ঐসব দেশে ভাতৃত্ব খুঁজে গোলাবারুদ বানান তারা কি জানেন যে তাদের পুত্র স্বামী ভাই মামা চাচা যে সব দেশে শ্রমিক হয়ে গেছেন তাদের সঙ্গে আমাদের মুসলিম ব্রাদারগন হাতে ইলেকট্রনিক তসবী হয়েও কি ব্যবহার করেন? আমাদের ঐ রক্ত চোষা মুসলিমরা আমাদের কি ভাবে? জানেনকি  আমাদের সেই মহার্ঘ বৈদেশিক মুদ্রায় দেশে যে পতাকা দোলে সে তেল যে তাদের রক্ত,মেরুদন্ড ও হাড়? কেউ জানেন নাকারণ তারা লজ্জায় নিজ পরিবারের এমনকি নিজ স্ত্রীকেও বলেননাতাদের ন্যূনতম অধিকার দেখার কেউ নেইঅকুল পাথারে তারাতারা গভীর রাতে উষর মরুতে চিৎকার করে সন্তানের নাম ধরে কাঁদেনহায়রে অভাগা ফেরারও অর্থ নেইমরে গেলে তবে তার দূতাবাস তাকে পাঠাবে

 

প্যানোরোমা দেখে মনে পড়লোবছর খানেক আগে আমার টনক নড়ে- যখন ইংল্যান্ডের ইন্সস্টিউট অব লিংগুইস্ট (আমি তাদের নগন্য এক পরীক্ষক) আমার কাছে নির্মান স্থলে দুঘটনা বিষয়ক একটি ভিডিওর বাংলার যথার্থতা পরীক্ষা করার জন্য পাঠায়সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্যেরভিডিওতে দেখে তার প্রকল্পের আকার দেখে কতক্ষণ চোয়াল বন্ধ করতে পারিনাআর এত লোক সেখানে কাজ করছে! তাদের যাতে দুর্ঘটনা না হয় বা হলে কার কাছে কোথায় যেতে হবে এ তার বাংলা সংস্করণবুঝে গেলাম ওখানে আমাদের মানুষই শ্রমিকভেবে ভালো লাগলো তা অন্তত বাংলায় লেখা ও বলা হচ্ছেপরে শুনলাম এও এক খেলাদায় সারিবার এবং কাগজপত্রে তা দেখানোর খেলানিয়ম থেকে কি হবে যদি তার কিছুই বাস্তবে না হয়? কাউকেতো আমাদের শ্রমিকদের হয়ে তা নিশ্চিত করতে হবে  প্যানোরোমা দেখে বুঝলাম কেউ তা করেনা

আচ্ছা ধর্মের বাড়ি কোথায়? আরবে,ইংল্যান্ডে না ইজরাইলে? ধর্মর বাস কি আচরণে আপ্পায়নে না ধর্ম গ্রন্থে? মসজিদ,মন্দির,সেনেঘ্গ না র্গীজাঘরে? ভাবি,কী করে উক্ত অনৈতিক কাজগুলো ক্রমাগত করেও ওরা শুধু একটি বিশেষ ভূখন্ডে বাস করছে বলে আমাদের কাছে ইসলামের আইকন হয়ে আছেকোম্পানীগুলোর চকচকে দাঁতগুলো কীভাবে আমাদের মাংশ কামড়ে হয়ে যাচ্ছে মিলিওনেয়ার আর আমরা মধ্যপ্রাচ্যের স্লাম ডগ- বস্তির কুকুর

shetuli@yahoo.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.