Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ Download PDF version
 

বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ

বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ

প্রফেসর মাহফুজ আর চৌধুরী

পটভমি

বাংলাদেশ যে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য একটি উত্তম স্থান তা যে কোন মাপকাঠিতেই ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন এবং খ্যাতিমান বিনিয়োগ ব্যাংক মরগেন স্ট্যানলি এর মত প্রতিষ্ঠানও মতামত দিয়েছে যে ম্যানুফ্যাকচারিং এ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্র এবং ২০১৫ সাল নাগাদ এখানে বার্ষিক বৈদেশিক বিনিয়োগ ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশ্বায়ন প্রবণতার যুগে বাংলাদেশের সস্তা শ্রমিক, প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ এবং উন্নতিসাধক যোগাযোগ ব্যবস্থা যে তুলনামূলকভাবে কম খরচে উৎপাদন করার সুযোগ করে দেবে তাই তাদের মতবাদকে প্রভাবিত করেছে তা বুঝা যায়। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এখানে বিনিয়োগের আকর্ষণ অনেকগু বেশী হওয়া উচিত কেননা এতে নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া ছাড়াও নিজ দেশকে সাহায্য করার একটা বড় সুযোগ তারা পাবে।

প্রথমতঃ বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশাল দেশ এবং হাজার বছর ধরে বিদেশীরা এই দেশকে শোষণ করার পরেও এখানকার সম্পদ বলতে গেলে এখনো অফুরন্ত। যে সব প্রাকৃতিক সম্পদ এই দেশকে সমৃদ্ধশালি করেছে তাদের মধ্যে প্রধান হলো পলিবাহিত উর্বর জমি, উন্নতমানের কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের যথেষ্ট মজুদ। এই দেশ কাঁচা পাট, চা এবং চামড়া উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ। এছাড়াও উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে জিনিষটা অনেক বেশী অবদান রাখে তা হল শ্রম এবং সেই দক্ষ অথচ সস্তা শ্রমিকের যথেষ্ট সরবরাহ এখানে রয়েছে। উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগূলির মাধ্যমে সহজে একটি দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে তোলা এবং ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে তা আরো সম্প্রসার করা খুব একটি কঠিন কাজ নয়।

অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের ভূমিকা অপরিসীম। এইভাবে দ্রুত শিল্পায়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারনের মাধ্যমেই কিন্তু আজ চীন এবং ভারত তাদের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করছে। অথচ তাদের মত একইভাবে উন্নতি সাধনের জন্য যথেষ্ট সম্পদের মালিক হয়েও বাংলাদেশ এখনো সেই সুযোগ পুরাপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না।

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের সঠিক পথ কি হবে তা নির্ধারণ করার সম্পূর্ণ দায়ীত্ব থাকে সে দেশের সরকারের। দুর্ভাগ্যবশতঃ বিগত দিনে বাংলাদেশের কোন সরকার সেরকম দায়ীত্বশীল ছিলনা তাই এখানকার অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনাও পূর হয়নি। এই যেমন, ইনফরমেশান টেকনোলজিতে অবদান রাখার জন্যে আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে বড় সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছিল। অথচ তা করতে পারলে বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে কত এগিয়ে যেত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে স্বাধীনতার ৩৭ বছরের মধ্যে অনেক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা তাদের অতীতের ভুলগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতের জন্য তাদের মনোভাব বদলাবারও চেষ্টা করছে, যদিও তাদের কিছু কার্যকলাপে হতাশার চিহ্নও পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে কীভাবে এবং কত দ্রুত পরিবর্তন আসবে তা নিশ্চিত করে এখন বলা না গেলেও আশাবাদ হওয়ার কিছু লক্ষ দেখা যায়। বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়ার জন্যে দেশের সর্বাঙ্গীন অবস্থা এখনো যে অনুকলে নয় তার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি দাঁড়া করা গেলেও পরিবর্তনের বর্তমান প্রবণতাকে আর বন্ধ করা যাবেনা বলে মনে হয়। মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছে এবং তারা দেশের এই অচল অবস্থার দ্রুত অবসান চায়।

মনে হচ্ছে দেশে আইন শৃংখলার উন্নতি এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ধাবিত হচ্ছে বা কাজ করছে। তবে দেশের অবস্থার উন্নতির মাত্রা আশানুরুপ না হলেও সবদিক দিয়ে বিবেচনা করলে দেখা যাবে সারা বিশ্ব যখন বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বের হওয়ার একটি সহজ পথ খুঁজছে তখন বিনিয়োগকারদের জন্যে এই বাংলাদেশ দেবে একটি উত্তম সুযোগ। যে কোন ব্যবসাতেই কোন না কোন ঝুঁকি নিতে হয়। বাংলাদেশের পূর্নাঙ্গ অবস্থার উন্নতি আসতে আসতে বিশ্ব বাজার সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী এবং সেই অবস্থায় এখানে ব্যবসার ঝুঁকিও বেড়ে যাবে অনেক।

এই বিশ্বায়ন ও পরিবর্তনশীল যুগে উন্নয়নশীল দেশগুলি তাদের নিজ নিজ দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং কাজ দিন দিন বাড়াতে অতি ব্যস্ত। এমতবস্থায় প্রবাসীরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জ্ঞ্যান, দক্ষতা এবং আর্থিক সম্পদ দিয়ে বাংলাদেশে এর বিনিয়োগ করার জন্যে এগিয়ে এসে বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ গ্রহ করতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু যে তারা নিজেরা লাভবান হবে তা নয় বরং এর দ্বারা তারা তাদের নিজ দেশকেও অর্থনৈতিক উন্নতি অর্জনে অনেক সাহায্য করতে পারবে। এমন কি বাংলাদেশের সাথে তাদের সামাজিক এবং নাড়ির যে সম্পর্ক রয়েছে তার কারণে অন্যান্য বিদেশী বিনিয়োগকারদের চাইতে এখানে প্রবাসীদের অনেক বেশী লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বাংলাদেশে শিল্পায়ন

যদিও একটি দেশের উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য্য, বাংলাদেশের বেলায় দেখা যায় এই ক্ষেত্রে উন্নতি না করে দেশ তার বহু মৌলিক বড় বড় শিল্পকেও হারিয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ পাট শিল্পের কথা উল্লেখ করা যায় যা এখনো বছর বছর শুধু অবনতির দিকেই ধাবিত হচ্ছে। যখন ষাট দশকের দিকে পেট্রোলিয়াম দিয়ে তৈরী পাটের বিকল্প কৃত্রিম পণ্য বাজারে আসে তখন পাট দিয়ে তৈরি পণ্যের চাহিদা কিছুটা কমে গেলেও একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। অথচ দেখা যায় পাট দিয়ে তৈরি পণ্যের বাজার বাংলাদেশ একদিকে হারিয়েছে আর অন্যদিকে ভারত তার সেই বাজারের অংশ বাড়িয়েছে। এখন পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়ার কারণে পাট দিয়ে তৈরি পণ্যের বাজারও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশের পাট শিল্পের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা দেখে আদৌ মনে হয়না যে দেশ এই উঠতি বাজারের কোন সুফল ভোগ করতে পারবে। অথচ বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে সমগ্র পাটের বাজার ৮০ শতাংশ কাঁচা পাটে এবং ৫০ শতাংশ পাট দিয়ে তৈরি পণ্যে বৃদ্ধি করানো সম্ভব।

দেশের চামড়া শিল্প আরেকটা উদাহরণ যেই খাতে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি সাধন করতে পারত অথচ করেনি। চামড়া দিয়ে তৈরি পণ্যের চাহিদা শুধু যে যুক্তরাষ্ট্রে বেশী তা নয়, সারা বিশ্বেও তার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। আজ এটা পরিস্কার যে বাংলাদেশ তার উৎপন্ন চামড়া দিয়ে উন্নতমানের পণ্য তৈরি করে বড় ধরনের বাজার দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই ধরনের যুক্তি দেশের চা, তলা এবং চিনি শিল্পের জন্যও প্রযোজ্য। শুনে বিস্মিত হতে হয় যে জার্মানিতে কোন চা উৎপন্ন না হলেও সেই দেশেরই একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উন্নতমানের চা বাজারজাত করছে।

এখানে বাংলাদেশের মাছ শিল্পের উন্নতির কথাও আলোচনায় আনা দরকার। তুলনামূলকভাবে এই শিল্পের কিছুটা উন্নতি হলেও যেই হারে উন্নতি হওয়ার কথা সেই হারে কিন্তু তার উন্নতি হয়নি। অবশ্য এই শিল্পের বেলায় নানা প্রতিকূল অবস্থার কথা বিবেচনায় আসলেও এই শিল্পের গঠন এবং সম্প্রসারণের দায়দায়ীত্ব সরকার কিছুতেই এড়াতে পারেনা।

পোশাক শিল্প

বলা যায় বাংলাদেশ কোন শিল্পে উন্নতি করে থাকলে তা একমাত্র পোশাক শিল্পেই করেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎসের মধ্যে রেমিটেন্সের পরেই পোশাক রফতানির স্থান। তবে এই শিল্পের উন্নতিতে সরকারের নীতির পরিবর্তে বাইরের শক্তির প্রভাবই বেশী কাজ করেছে। সত্তুর দশকের শেষ দিকে দূরপ্রাচ্যের দেশগুলি তাদের পোশাক রতানির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোটা আরোপ করলে সেই কোটা এড়াবার জন্যে তারা বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের সচনা করে। পরে বাংলাদেশী কিছু অনভিজ্ঞ পুঁজিপতিরাও এই পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্যে এগিয়ে আসে। তবে এই ক্ষেত্রে স্থিতি এবং উন্নতি আসার আগে এই শিল্পকে অনেক চড়াই উতরাই পথ অতিক্রম করতে হয়েছে এবং অবশেষে বিশ্বে পোশাক রফতানিতে এক বিশেষ স্থান করে নিতেও সক্ষম হয়েছে।

সুতরাং দেখা যায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের স্থিতি ও উন্নতি আসার পিছনে প্রধানতঃ কাজ করেছে বিদেশীদের প্রাথমিক বিনিয়োগ, তৈরি পোশাকের গুনগত মান রক্ষার ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য এবং সেই সঙ্গে উন্নত বাজারজাত পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। তদোপরি বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে কোটা ছাড় পায় তাও এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য এই কোটা ছাড় বন্ধ করে অন্যান্য অনুন্নত দেশকে পোশাক রফতানিতে সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করাতে এই শিল্পের উপর চাপ দিন দিন বাড়তে থাকবে।

তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন হবে পোশাকের মূল্য, মান, সরবরাহ ইত্যাদি বজায় রাখা। তবে ধারণা করা হয় যে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এ যাবত যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তা দিয়েই তারা এই বিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে সক্ষম হবে।

অন্যান্য সম্ভাবনা

এ কথা বলা যায় যে টেক্সটাইল খাতে বাংলাদেশের দক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশ চাইলে সেই দক্ষতা অন্যখানেও কাজে লাগাতে পারে। যেই ধরণের দক্ষতার ফলে দেশ পোশাক শিল্পে সুবিধা অর্জন করেছে সেই ধরণের দক্ষতাকে সহজে যেখানে শ্রম বেশী লাগে সেই রকম শিল্পে খাটিয়ে বাংলাদেশ আরো বড় সুবিধা আদায় করার ব্যবস্থা করতে পারে। এই ধরণের শিল্পের মধ্যে রয়েছে চামড়া দিয়ে তৈরি পণ্য, বিভিন্ন রকমের পাদুকা, খেলাধলার সামগ্রি (যেই খাতে বর্তমানে পাকিস্তান এগিয়ে আছে), কার্পেট বুনা (আরেক পাকিস্তানী সামগ্রি), হস্তশিল্প, এবং চীন বা অন্য দেশ থেকে ছোট ছোট ইলেকট্রনিক অংশ আনিয়ে তাদের জোড়া লাগায়ে টেলিভিশন ও কম্পিউটার সেট তৈরি, ইত্যাদি। তবে বাংলাদেশকে যে এইসব সামগ্রির সবকিছুই উৎপাদন করতে হবে তা নয়। দেশ চাইলে শুধু আধা-দক্ষ শ্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন অংশ জোড়া দেওয়ার কাজে মনোনিবেশ করে সুবিধা আদায় করতে পারে।

এমন কি বাংলাদেশে খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজও সহজে করা যায়। এই ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশে সব ধরণের ফলনের সহজাত ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে আমিরিকার বড় বড় কোম্পানী যেমন ডেল, ডেল মনটি ও চিকিতার মত কোম্পানীকে উৎসাহ দিয়ে আমন্ত্র জানাতে পারে।

এছাড়াও বাংলাদেশ ফারমাসিউটিকেল সামগ্রি উৎপাদনে যে অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যে অর্জন করেছে সে খাতকে প্রসারিত করে তাতেও বেশ উন্নতি লাভ করতে পারে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং উপযুক্ত কার্য নির্বাহের মাধ্যমে ঠিকমত ফারমাসিউটিকেল সামগ্রি উৎপাদন করে খুব সহজেই এই খাতে বিশ্বে বাজার ধরার ভাল সম্ভাবনা রয়েছে।

সক্রিয় বাজারজাতকরণ

কোন সামগ্রির ভাল উৎপাদন ব্যবস্থা করাই কিন্তু যথেষ্ট নয়। ভাল উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে তার সক্রিয় বাজারজাত ব্যবস্থাও থাকা চাই। আসলে বিশ্ব বাজার ধরতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাই অনেক বড় সমস্যা। আধুনিক বাজারজাতকরণের জন্য তার উপর জ্ঞন ও দক্ষতা দুটো দরকার। এখানে বড় কথা হল বাজার প্রতিযোগিতায় নামার আগে সব দিক দিয়ে প্রস্তুত থাকা চাই। যদি বাংলাদেশের পণ্য মানে, দামে, সরবরাহে সবরকম প্রতিযোগতিতার জন্যে প্রস্তুত থাকে তাহলে বিশ্ব বাজার দখল করতে তাদের খুব বেশী বেগ পেতে হবেনা।

তাই বাংলাদেশে এখন যা খুব বেশী দরকার তা হচ্ছে মান সম্মত বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং তা বাস্তবায়নে যথায পরিকল্পনা। যদি এইসব ক্ষেত্রে দক্ষ প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসে তাহলে এর ফল যে সবাই ভোগ করতে পারবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

পরিশেষে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ রয়েছে। উপরে বড় বড় সুযোগের কথাই মাত্র উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্ষুদ্র পরিসরে সব কিছুর উপর কোন গভীর আলোচনা করা সম্ভব নয়। এখানে প্রধান আলোচ্য বিষয় প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে কীভাবে নিজের এবং তাদের ফেলে আসা গরীব দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি তরান্বিত করতে পারে তার উপরেই শুধু আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করা যা উক্ত ধারণাগুলো যেন অতি সহসা প্রবাসী এবং সরকার মহলের দৃষ্টি আকর্ষ করে।

 

মাহফুজ আর চৌধুরী নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির চি ডাবলিউ পোষ্ট এ অর্থনীতিতে অধ্যাপনা করেন। বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল দেশের বিভিন্ন সমস্যার উপর তাঁর বহু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং এই প্রবন্ধগুলি বিভিন্ন ওয়েব সাইটেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.