Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
প্রবাসীদের অর্থ বেপথে ব্যয় Download PDF version
 

বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ

প্রবাসীদের অর্থ বেপথে ব্যয়

মযহারুল ইসলাম বাবলা

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থই প্রধান উৎস। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বদান অপরিসীম। রাষ্ট্রীয় কোনরূপ সহায়তা ছাড়াই আমাদের তরুণরা স্বীয় উদ্যোগে বিদেশে বিভিন্ন দেশে গিয়ে নিজেদের কর্মগুণে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের পাঠানো অর্থই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস হয়ে দাড়িয়েছে। অথচ আমাদের রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীন শাসকেরা প্রবাসীদের জন্য কোনরূপ সুযোগ-সুবিধা আজও সৃষ্টি করতে পারে নি। নাম সবর্স্ব প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থাকলেও প্রবাসীদের কল্যাণে তেমন উল্লেখযোগ্য ভমিকা পালন করতে পারে নি। বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের ক্ষেত্রতে পরিণত। প্রবাসীদের স্বার্থে তাদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। তারা গরিব দেশের অর্থ অপচয় করে বিলাসী জীবন কাটায় অথচ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী জনশক্তির স্বার্থে তারা উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা-কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এজন্য তাদের কোনরূপ জবাবদিহিতা নেই। আসলে পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাটি এখনও ঔপনিবেশিক আমলের ধারাবাহিকতায় অটুট রয়েছে। সেই ব্রিটিশ-পাকিস্তানি আমলে যেমন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশেও তেমনি রয়ে গেছে। রাষ্ট্র বদলায় নি। কেবল ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে। তাই আজও আমাদের রাষ্ট্র আমাদের প্রতিপক্ষ। নিপীড়ক এবং গণবিরোধীও। রাষ্ট্র জনগণের নয় বলেই জনগণের পাশে রাষ্ট্রকে আমরা পাইনি। প্রবাসীরা বিদেশে অমানবিক পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল অবদান রাখলেও বিনিময়ে প্রবাসীদের স্বার্থে-অনুকলে রাষ্ট্র ও সরকার সামান্য ভূমিকা পালন করেনি। ছুটিতে দেশে এসে বিমান বন্দরে তাদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। মুখ বুঁজে সহ্য করতে হয় কাস্টমস্ ও সিভিল এভিয়েশনের দূর্নীতিবাজ চক্রের নানাবিধ অপর্কীতি। অথচ এই প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মূদ্রার ওপরই দেশ নির্ভরশীল।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের সিংহভাগ অর্থই বিনিয়োগ হয় অনুৎপাদনশীল খাতে। ফসলের জমি, আবাসিক জমি, ফ্ল্যাট, শপিং কমপ্লেক্স এর দোকান ইত্যাদি অনুৎপাদনশীল খাতেই তাদের অর্থ বিনিয়োগ দেখা যায়। অথচ তারা উৎপাদনশীল খাতে অর্থ বিনিয়োগ করতে চাইলেও তা নানা সঙ্গত কারণে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ম নীতির খড়গে সম্ভব হয় না। দেশে প্রবাসীদের দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান অসম্ভব তারা অর্থ যোগান দিয়ে কোন নিকট আত্মীয়কে যুক্ত করে চলে যায়। পরবর্তীতে যার উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে যায় সেই নিকট আত্মীয় অর্থ আত্মসাৎ করে লোকসান দেখিয়ে কেটে পড়ে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় দেখা যায়। অপর দিকে আমাদের দেশে শিল্প কারখানা সৃষ্টির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিড়ম্বনায়ও প্রবাসীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। দেশে যাদের আমরা শিল্পপতি হিসেবে জানি তারা শিল্প গড়ার নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের এক অভিনব ক্ষেত্র গড়ে তলেছে। ইন্ডাষ্ট্রীর নামে ণ নিয়ে সেই অর্থ অন্য খাতে বিনিয়োগ করে লোকসানি শিল্পের মালিক সেজে রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাট করে ণ খেলাপী হয়ে বহাল তবিয়তে থাকছে। অপর দিকে প্রবাসীরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে শিল্প কারখানা গড়তে গিয়ে রাষ্ট্রীয় বিধি ব্যবস্থার শিকার হয়ে ধৈর্য হারিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। শিল্প স্থাপনের জন্য জমি, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, ট্রেড লাইসেন্স, বি.এস.টি.আই প্রত্যায়পত্র, পরিবেশ ছাড়পত্র, অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হতে নানা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে মাসের পর মাস চলে যাবে। পাশাপাশি সংযোগ এবং প্রতিটি ছাড়পত্রের অনুমোদন প্রাপ্তিতে ঘুষ প্রদান করার সনাতনী নিয়ম চালু আছে। যা সৎ বিনিয়োগকারীদের অধিক মাত্রায় নিরুৎসাহিত করে যাচ্ছে। এ সমস্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতির খড়গে সঙ্গত কারণে আমাদের প্রবাসীরা দেশে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এজন্য তারা দায়ী নয়। দায়ী আমাদের ব্যবস্থা ও দেশের অনৈতিক পরিবেশ।

আমাদের দেশ মোটেও শিল্পবান্ধব নয়। শিল্প অন্তরায়। তাই দেশের পাট শিল্প, বস্ত্র শিল্প একে একে বন্ধ হয়েছে। বিশ্বব্যাংক আই, এম, এফ-এর নিদের্শনায় পাটকলগুলো আমাদের সামরিক এবং নির্বাচিত সরকারগুলো বন্ধ করে দিয়ে দেশকে পঙ্গু করে দিয়েছে। সৃষ্টি করেছে বেকারত্ব। অনিশ্চিত জীবনে ঠেলে দিয়েছে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও তাদের পরিবারদের। সেক্ষেত্রে প্রবাসীরা কোন আশায় দেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে? বিশ্বব্যাংক একদিকে আমাদের পাট শিল্প ধ্বংস করার নির্দেশ দিচ্ছে অপর দিকে আমাদের প্রতিবেশী ভারতে পাটকল নির্মাণের জোর সুপারিশ করে যাচ্ছে। সেখানে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন পাটকল। আমাদের ক্ষমতাসীন সরকারগুলো বিশ্বব্যাংক আই.এম.এফের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে দেশের সম্ভবনার অপমৃত্যু ঘটিয়ে চলেছে।

আমাদের দেশের ব্যবসায় সম্প্রদায় শাসক-শ্রেণী ভুক্ত বলেই ক্ষমতাশীন সরকার সমষ্টিগত মানষের উন্নতির বিষয়ের বিপরীতে লুটেরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে অন অবস্থান নিয়েছে। শিল্প বিনিয়োগকারী নামধারী ব্যবসায়ী চক্র মূলত রাষ্ট্রের অর্থ লোপাট করতেই পারদর্শীতা অর্জন করেছে। দেশ তাই শিল্প নির্ভর হতে পারেনি। হবার সম্ভাবনাও নেই।

এ রকম একটি অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের ইচ্ছে থাকলেও দেশে উৎপাদনশীল খাতে অর্থ বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই তাদের অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে জমি, আধুনিক শপিংমলের দোকান এবং ফ্ল্যাট ক্রয়ে। উৎপাদনশীল খাতে ইচ্ছে থাকলেও তা অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। এ অবস্থার থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় হলো ব্যবস্থার পরিবর্তন। তা কবে হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.