Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
প্রবাসিদের বিনিয়োগের ইতিহাস প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা Download PDF version
 

বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ

 

প্রবাসিদের বিনিয়োগের ইতিহাস প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা

 

কে এম সেলিম

 

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রএ দেশের রয়েছে একটি সুদীর্ঘ সোনালী অতীতএক সময় কর্মের সন্ধানে বিদেশীরা সুজলা-সুফলা এ বাংলায় ছুটে আসতকিন্তু দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন আর শোষণের ফলে বাংলা তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছেআজ এ দেশের নাগরিকরা কর্মের সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছুটে যাচ্ছেবর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে ৬২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেএ সব প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকরা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেবর্তমানে সরকারে বৈদেশিক আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হচ্ছে প্রবাসী বাঙালীদের পাঠানো রেমিটেন্সবিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে প্রবাসী বাঙালিরা ৯২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেযা বিশ্বের ৭০টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে সপ্তম

প্রবাসীদের বিনিয়োগের ইতিহাস:

বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সর্বপ্রথমই আলোচনা করতে হয় কবে থেকে বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে বের হয়েছেতথ্য প্রমাণ থেকে যতটা জানাযায় ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথম বিদেশে শ্রমিক রপ্তানী শুরু হয়অবশ্য স্বাধীনতার পরও বিছিন্নভাবে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নাগরিকরা কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছে১৯৭৬ সাল থেকে পুরুষ শ্রমিক রপ্তানী শুরু হলেও ২০০৩ সাল থেকে মহিলা শ্রমিক রপ্তানী শুরু হয়আর ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে ৬২ লাখ শ্রমিক রপ্তানী করা হয়েছ্ে বর্তমানে প্রায় ৬৩ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশের মাটিতে কাজ করছে

ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বে বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করছেএর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য এবং মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেবাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ আসে এসব শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকেপ্রবাসীদের পাঠানো টাকা সরকার এবং বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে

প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ নির্দিষ্ট কোনো একটি খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে নাপ্রবাসীরা সাধারণতঃ দুই ধরণের বিনিয়োগ করছেএকটা স্বল্প মেয়াদি ও অন্যটা দীর্ঘ মেয়াদিসাধারণত যে সব প্রবাসী বাঙালি ইউরোপ আমেরিকায় দীর্ঘ দিন ছিলেন তারা দেশে এসে বিভিন্ন মিল ইন্ড্রাস্টিজ করছেআবার আনেকেই ঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন ব্যাংকের বন্ড ক্রয় করছেসেক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক বিভিন্ন ধরণের মুনাফা প্রদান করে থাকে

আবার প্রবাসীদের কেউ কেউ একসঙ্গে অর্থ নিয়ে এসে ব্যক্তি উদ্যোগে বিনিয়োগ করছেএর মধ্যে রয়েছে হাঁস-মুরগীর খামার স্থাপনগরু মোটা-তাজাকরণ প্রকল্পতাছাড়া কোনো কোনো প্রবাসী বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়ও অর্থ বিনিয়োগ করছেতবে প্রবাসীরা নিরাপদ ও সবচেয়ে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করছে হাউজিং খাতেপ্রবাসীরা এখাতে অর্থ বিনিয়োগটাকে নিরাপদ মনে করেনসৌদি প্রবাসি নাজমুল হোসাইন বর্তমানে ছুটিতে বংলাদেশে রয়েছেন তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ২০ লাখ টাকায় মতিঝিলে একটি রিয়েলএ্যস্টেট কোম্পানীর নিকট থেকে ৩ কাঠা জমি বুকিং দিয়েছেনতিনি আবার বিদেশে চলে যাবেনএবং সেখানে থেকে পুনরায় টাকা নিয়ে এখানে বাড়ি করে তিনি ভাড়া দেবেন বলে জানান

তবে যারা দীর্ঘ দিন থেকে বিদেশে রয়েছেন তারা দেশে এসে নানা ধরনের বিনিয়োগ করছেনপ্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে বসে ক্যাটারিং ব্যবসা করছেতাছাড়া প্রবাসীরা বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে বিনিয়োগ করছেপ্রবাসীদের বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ধরণের বিনিয়োগ সুবিধা চালু করেছেবর্তমানে প্রবাসীরা এখানে নিরাপদে তাদের অর্থ বিনিয়োগ করছেবাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবাসীদের বিনিয়োগ স্কিমগুলো হচ্ছে:

১. নন-রেসিডেন্স ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (এনআরএফসি)

২. নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টমেন্ট টাকা একাউন্ট

৩. প্রবাসি ওয়েজ-আর্নার্স বন্ড

৪. ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ২০০২

৫. ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড

এছাড়া বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক প্রবাসীদের বিনিয়োগে বিভিন্ন স্কিম চালু করেছেএর মধ্যে ইসলামি ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, উত্তরা ও প্রাইম ব্যাংক অন্যতমউল্লেখ্য সাধারণতঃ ক্ষুদ্র আয়ের প্রবাসীরা খামার ও জমি ক্রয় করে বিনিয়োগ করতে দেখা গেছেতবে সার্বিক হিসেবে দেশের মোট বিনিয়েগের একটি বড় অংশই হচ্ছে প্রবাসীদের

বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা:

বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের পাঠানো আর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নানা সময় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেকিন্তু এসব উদ্যোগের যথাযথ প্রতিফলন না ঘটায় প্রবাসীদের প্রতিনিয়িতই নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা দেশে পাঠাতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছেবাধ্য হয়ে তারা হুন্ডি ব্যবসায়িদের সম্মুখীন হচ্ছেপ্রবাসিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানামূখী প্রতিবন্ধকতাসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অসহযোগিতা, বিদেশ থেকে সরাসরি টাকা পাঠানোর সহজ ব্যবস্থা না থাকা এর অন্যতম কারণ

কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক সাহারাজ মিয়া বলেন, কুয়েত থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে তাকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সহায়তা নিতে হয়েছেএজন্য তাকে এজেন্সিকে মোটা অংকের টাকা প্রদান করতে হয়েছেকিন্তু সেখানে বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের শাখা থাকলে অতি সহজে তিনি টাকা পাঠাতে পারতেন বলে জানানতিনি বলেন, তাতে সরকারের ও রেভিনিউ আয় হত

প্রবাসিদের বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সরকারের অসহযোগীতা এ বিষয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ উন্নয়নে কাজ করেন রামরু পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিক বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগে বড় বাধা হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অসযোগিতা ও দুর্র্নীতিতিনি বলেন, প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত টাকা বিনিয়োগ করতে গিয়ে প্রজেক্ট পাশ করাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে গিয়ে নানা ধনের বিড়ম্বনায় পড়ে তারা আবার ওই টাকা নিয়ে বিদেশ চলে যায় এবং তারা সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেতিনি বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকারকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করতে হবেএ জন্য তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনেরও কথা বলেনতিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকারকে বিভিন্ন পুরস্কার ঘোষণার সুপারিশ করেনতিনি বলেন, এতে প্রবাসীরা তাদের অর্থ অলস ফেলে না রেখে বিনিয়েগে উৎসাহিত হবে

বিনিয়োগের সম্ভবনা:

বাংলাদেশে ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারকিন্তু এরপরের অবস্থানেই রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ২০০৭-২০০৮ সেশনে প্রবাসী শ্রমিকরা ৯.২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেআশার কথা হচ্ছে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে বিশ্ব মন্দার মধ্যে এ রেমিটেন্সের পরিমাণ আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছেপ্রবাসীদের এসব বিনিয়োগ আমাদের দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করছেবাংলাদেশ সরকার বিদেশিদের পাঠানো অর্থের সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার করতে নানামুখি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেএজন্য প্রয়োজনে যে সব দেশে অধিক সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে সে সব দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা খোলার চিন্তা করছে সরকারএছাড়া দেশে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংক খোলা হবে বলে জানিয়েছে সরকারসরকারের এসব উদ্দেশ্য যথাযথ বাস্তবায়ন হলে দেশের উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করেন ড. তাসনিমতিনি বলেন, প্রবাসীদের উপার্জন বাংলাদেশের উন্নয়নএ শ্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করছে রামরুতিনি আরো বলেন, সরকার এবং ব্যক্তি উদ্যোগে প্রবাসিদের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবেএজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এগিয়ে আসতে হবে

আমাদের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থপ্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসতে হবেনিশ্চিত করতে হবে তাদের বিনিয়োগের পরিবেশতাহলে প্রবাসীদের বিনিয়োগ আমাদের অর্থনীতিকে সামনে দিকে উত্তরোত্তর এগিয়ে নেবেআমাদের এ সম্ভাবনাময় খাতে উন্নয়নে সকলকে মিলিতভাবে কাজ করতে হবেপরিশেষে বলা যায় আমাদের প্রবাসি ভাইদের উপার্জিত আয় যেন আমাদের অবহেলায় নষ্ট না হয়ে যায় সে দিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.