Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
অতিথি সম্পাদকের কথা Download PDF version
 

বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ

অতিথি সম্পাদকের কথা ...

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী জনশক্তির ভূমিকা

 

পড়শীর বর্তমান সংখ্যার কভার ষ্টোরী নির্মিত হয়েছে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশী জনশক্তির স্বদেশে অর্থ প্রেরণের ওপর। পাঠকদের উদ্দেশ্যে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করতে পেরে পড়শী কর্তৃপক্ষ আনন্দিত বোধ করছে। বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এটা অন্যতম প্রধান একটি সূত্র। এই সূত্রলব্ধ অর্থ স্বভাবতই দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে; এবং তা করা উচিৎও। এ্যাপার্টমেন্ট, দোকানপাট এবং জমি কেনার মত অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না করাই শ্রেয়। এই সংখ্যায় প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের ব্যপকতা, আকৃতি দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে কতটুকু প্রভাব ফেলে বা ফেলার সম্ভাবনা রাখে তার উপর কয়েকটি প্রাসঙ্গিক লেখা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। আশা করি, পাঠকবর্গ এগুলো থেকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উপকারী/লাভজনক তথ্য-উপাত্ত পাবেন।

২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরকে সামনে রেখেই আমরা বাংলাদেশে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের পরিমান ও ব্যাপকতা সম্পর্কে একটু ধারণা পেতে পারি - এই অর্থ বছরে এই সূত্র থেকে বাংলাদেশে প্রেরিত হয়েছে পায় ৯.২ বিলিয়ন ডলার। সারা বিশ্ব গভীর অর্থনৈতিক রিসেশনে জর্জরিত হলেও বাংলাদেশে এর প্রবাহ শুধুমাত্র একই মাত্রায় অব্যাহত থাকেনি- কিছুটা বেড়েও যায়। এই অংকটি গার্মেন্ট শিল্প থেকে অর্জিত অর্থের প্রায় সমান। এই আয় বাংলাদেশের সর্বমোট রফতানীকৃত আয়ের ৬০ শতাংশ। তবে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের আয় ৯.২ বিলিয়ন ডলারের পুরোটাই আয় - সেক্ষেত্রে গার্মেন্ট শিল্প থেকে অর্জিত ৯.২ বি: ডলারের অর্ধেক অর্থ ব্যবসায় পরিচালনার প্রয়োজনে কাপড়, সূতা, ফেব্রিক এবং শেলাইয়ের অপরাপর উপাত্ত আমদানীর পেছনে ব্যয় করতে হয়। সেই অর্থে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ এককভাবে সবচেয়ে বড়ো সূত্র। এটা দেশের গ্রস ডমেষ্টিক প্রোডাক্টসের (জি, ডি, পি) প্রায় ১২ শতাংশ।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পুঁজির অন্যতম প্রধান সূত্র হচ্ছে বহুজাতিক কর্পোরেশনসমূহের সংঘটিত ফরেন ডিরেক্ট ইনভেষ্টমেন্ট (এফ ডি আই)। দূর্ভাগ্যজনক যে, বাংলাদেশ এফডিআই আকর্ষণের ক্ষেত্রে তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে বাংলাদেশে এফডিআই-এর প্রবাহ বছরে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার। আমেরিকার একটি এজেন্সী ৮৬টি দেশে এফডিআই-এর তুলনামূলক অবস্থান নির্ণয় করে। তাদের দি ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুক ২০০৮- এ বাংলাদেশের স্থান ৭৭ দেখানো হয়। বাংলাদেশে এফডিআই-এর পরিমান দেখানো হয় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। অথচ সেখানে ভিয়েতনামের অবস্থান ৪৯ (এফডিআই ৪৩ বিলিয়ন ডলার), পাকিস্তানের অবস্থান ৫৪ (এফডিআই ২৫ বিলিয়ন ডলার) এবং ভারতের অবস্থান ২২ (এফডিআই ৪২ বিলিয়ন ডলার) বলে দেখানো হয়। অর্থেনৈতিক উন্নয়নের জন্যে এফডিআই-এর গুরুত্ব অনেক। স্পষ্টতঃই বাংলাদেশ এফডিআই আকর্ষণে পিছিয়ে আছে। এর কার একাধিক তবে দেশের সামাজিক রাজনৈতিক কার তার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। কারগুলোর উপর গভীর আলোচনা বা ব্যাখ্যা এই ম্যাগাজীনের একটি সংখ্যার ক্ষুদ্র সীমিত পরিসরে সম্ভব নয়।

বর্তমান সংখ্যায় চারটি লেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখাগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশী জনশক্তির দেশে অর্থ প্রেরণের ইতিহাস, ব্যাপকতা এবং তার প্রভাবের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। আশা করা যায়, লেখাগুলো পড়ে পাঠকবর্গ বিষয়টির উপর সার্বিক একটি ধারণা পাবেন যা তাদেরকে সম্মূখে এগুনোর ক্ষেত্রে সমস্যা ও সম্ভাবনার দিকগুলোকে ভেবে দেখার রসদ যোগাবে। জনাব রফিক আনোয়ার অর্থনৈতিক কারণে বিদেশ যাত্রা কি করে আধুনিক জনশক্তি রফতানী ব্যবসায়ে রূপান্তরিত হয়েছে তার ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত দিয়েছেন। তিনি জাতীয় অর্থনীতি এবং দেশে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের উপর এর প্রভাবের কথা বলেন। প্রেরকরা কি করে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় প্রবাহিত করতে পারেন সে বিষয়েও কিছু ধারণা উপস্থাপন করেছেন। জনাব কে, এম, সেলিম বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানীর ইতিহাস তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে অন্যান্য দেশের আয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের আয়ের তুলনা করেছেন। অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনশীল খাতে এই অর্থ ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে বিভিন্ন কর্মসূচী রয়েছে সেগুলো সম্বন্ধেও অবহিত করেন। অর্থ প্রের করতে গিয়ে বিভিন্ন বাধার সম্মূখীন হয়েছেন এমন কিছু মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দৃষ্টান্ত তিনি দেন? এই সম্পদের যথার্থ ব্যবহার উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তিনি নতুন কিছু কর্মসূচীর সুপারিশ করেন। জনাব মযহারুল ইসলাম বাবলা এপার্টমেন্ট, দোকানপাট এবং জমি কেনার মতো অনুৎপাদনশীল খাতে এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা তুলে ধরেন; অর্থ প্রেরকরা শিল্প উন্নয়নে কেন তাদের অর্থ বিনিয়োগ করেননা তার কারও তুলে ধরেন। প্রফেসর মাহফুজ আর চৌধুরী বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে বাংলাদেশে উপস্থিত সে সমস্ত কার এবং উপাত্তের কথা উল্লেখ করেন। তিনি অতি সম্ভাবনাময় নির্দিষ্ট কিছু খাত যেমন চামড়া, মাছ, ঔষধশিল্পসহ অগতানুগতিক/ব্যতিক্রম শিল্পের কথা উল্লেখ করেন। উপযুক্ত বিনিয়োগ কর্মসূচীর মাধ্যমে এগুলো থেকে বাংলাদেশের রফতানী বৃদ্ধি করা যাবে বলে তিনি মনে করেন।

 

ডঃ মাহমুদ হাসান

প্রফেসর, ফাইন্যান্স এন্ড ইকোনোমিকস

রাগার্স বিজনেস স্কুল, নিউ জার্সি

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.