Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও প্রাসঙ্গিক কথা (শেষ পর্ব) Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

বিশ্বজোড়া পাঠশালা

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও প্রাসঙ্গিক কথা (শেষ পর্ব)

জাকিয়া আফরিন

আদিবাসী জনগোষ্ঠী বা যেকোন সংখ্যালঘু জনপদের সাথে বিভিন্ন সরকারের যে চুক্তিগুলি বিশ্বজুড়ে রয়েছে প্রায়শঃই তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ থাকে স্বায়ত্ত্বশাসন সংক্রান্ত। রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বিবেচনা করে নানাবিধ ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব স্বায়ত্ত্বশাসন শব্দটির। অনেকে একে মনে করে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মুখোশ স্বরূপ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলিও এর ব্যতিক্রম নয়। পাকিস্তানের কাছ থেকে সম্পুর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসের দাবীই যে শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্ম দিয়েছিল সেই স্মৃতি থেকেই হয়ত আদিবাসীদের ন্যয্য অধিকারকে ষড়যন্ত্র বলে মনে হয় অনেকের কাছে। ফলাফল পাবর্ত্য শান্তিচুক্তিতে স্বায়ত্ত্বশাসন শব্দটির উল্লেখমাত্র নেই। আন্তর্জাতিক আইনে স্বায়ত্ত্বশাসনের অধিকার স্পষ্ট ভাষায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত নয়। তবে প্রচলিত ব্যবহার বা প্রথা যদি আইনের অংশ বলে বিবেচিত হয়, তবে বলতে হবে আদিবাসী গোষ্ঠী বা সংখ্যালঘু জনপদকে স্বায়ত্ত্বশাসনের অধিকার বিশ্বজুড়ে আইনে পরিণত হয়েছে।

সাংস্কৃতিক রীতিনীতির স্বাধীনতা থেকে শুরু করে স্বায়ত্ত্বশাসনের পরিধি বিস্তৃত ভূখন্ড পরিচালনার সবকটি ক্ষেত্রেই। তবে একটি বিষয়ে মিল রয়েছে প্রতি ব্যবস্থায়। বহির্বিশ্ব সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত ও সামরিক বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রেখে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে চায় দেশগুলো। এমনকি স্বায়ত্ত্বশাসিত ভূখন্ডে ভিন্ন সংবিধান প্রণয়নেরও নজির রয়েছে। আবারও বলতে হয় ম্যাকাও এবং হংকংয়ের কথা। চীনের মূল ভূখন্ডে প্রচলিত সমাজ কিংবা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে কোন মিলই নেই এই দুই অঞ্চলের। সমাজতান্ত্রিক চীনের অন্তর্ভুক্ত হয়েও এ দুই অঞ্চল (বেশিরভাগ মানুষ এদের আলাদা দেশই মনে করে!) সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে চলছে। হংকংয়ের মত ক্যাপিটালিষ্ট সমাজ বিশ্বে খুব বেশী নেই। পাপুয়া নিউ গিনির স্বায়ত্ত্বশাসিত দীপ বোগেনভিল এর উদাহরণও এখানে মানানসই মনে হতে পারে। বোগেনভিলের রয়েছে নিজস্ব সংবিধান। শুধুমাত্র বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে কিংবা সামরিক বাহিনীর সাহায্যের জন্য তারা মুখাপেক্ষি হয় মূল ভূখন্ডের। এমনি স্বায়ত্ত্বশাসন কি তবে সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ? রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা তা মনে করছেন না। দিন দিন জাতিগত সংঘাত / গৃহযুদ্ধ মেটাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো স্বায়ত্ত্বশাসন প্রস্তাবনার দিকেই ঝুঁকছে। স্পষ্ট বিধানের অভাবেই বরং ভেঙ্গে পড়তে পারে শান্তিচুক্তি। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের ঘটনা কিংবা কাশ্মীরে লাগাতার অস্ত্রের ব্যবহার সে যুক্তির স্বপক্ষেই সাক্ষ্য দেয়।

শান্তিচুক্তির সফলতা আরো নির্ভর করতে পারে সংঘাতের মূল উৎস বের করে গোড়ায় গলদ মেটানোতে। পার্বত্য অঞ্চলে অসহিষ্ঞুতার মূলে রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির অভাব। বাঙালি মুসলমানের আধিপত্যে কোণঠাসা পাহাড়ীদের অসন্তোষের অবসান ঘটাতে হলে নজর দেয়া উচিত তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করার দিকে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি অবহেলিত রয়েছে পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে। ভাষা যেকোন জাতি / জাতিসত্ত্বার অন্যতম পরিচয়। পাহাড়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পনেরটির চেয়ে বেশী ভাষা প্রচলিত থাকলেও বাংলাভাষার পাশাপাশি এদের উল্লেখ নেই সংবিধান, শান্তিচুক্তি বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ দলিলে। অথচ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ভাষার স্বীকৃতি দেবার নজির রয়েছে ভুরি ভুরি। বিশ্বব্যাপী সমালোচিত চীন তিব্বতীদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করার অভিযোগে অথচ সেখানেও স্কুল কলেজে নিজ ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার করেছে তিব্বতী শিশুদের। একই নিয়ম প্রযোজ্য চীনের আরো অসংখ্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ভাষা সম্পর্কে।

বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিচুক্তিতে বিদ্যমান অপর যে বৈশিষ্ট্য পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে অনুপস্থিত তা হলো মতবিরোধ নিরসনের উপযুক্ত ফোরাম (Dispute Resolution Mechanism)। চুক্তির যেকোন অংশের ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে, তা নিরসনের কথা কোথাও বলা হয়নি চুক্তিতে। অথচ একে অনেকটা প্রাথমিক বিষয়বস্তু বলা যেতে পারে। একটি ল্যান্ড কমিশন, যার দায়িত্ব জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা; এবং টাস্ক ফোর্স বাস্তুহীন মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান যার আওতাধীন, কারোরই এখতিয়ার নেই চুক্তির ভাবার্থ সম্পর্কিত কোন মতবিরোধ মিটানোতে ভূমিকা রাখা। বোগেনভিলা, হংকং, কাশ্মীর সহ অসংখ্য চুক্তিতে এই বিধান সংযোজন করে এড়ানো গেছে চুক্তি সংক্রান্ত নানা ঝামেলা।

পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে কি নেই, তাই নিয়েই আলোচনা এ লেখায়। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসকল বিধান অর্ন্তভুক্ত হয়েছে, তা নিয়েও সমস্যার অন্ত নেই। বর্তমান সরকার নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের পক্ষে সম্ভব চুক্তিটিকে সঠিক মর্যাদায় অধীষ্ট করা। তবে তার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বিবেচনা করাই কাম্য।

জুলাই ৮, ২০০৯

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

`Bangladesh in the 21st Century’ – ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট আয়োজিত সম্মেলনে পঠিত গবেষণার সংক্ষিপ্ত রূপ এই লেখা।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.