Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যা শ্রাবন ১৪১৬ •  9th  year  4th  issue  Jul-Aug  2009 পুরনো সংখ্যা
সমস্যার আরেক সংযোজন, টিপাইমুখ প্রকল্প Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

দূরের জানালা,কাছের মানুষ :

সমস্যার আরেক সংযোজন, টিপাইমুখ প্রকল্প

অনিরুদ্ধ আহমেদ

 

এক.

বাংলাদেশে  একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আওয়ামি লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কারণে মানুষের আকাশ ছোঁয়া প্রত্যাশার ঠিক কতখানি পূরণ হবে তার হিসেব কষা এখনও শুরু হয়নিকোন কোন প্রত্যাশাপুরণে সময় লাগবে বেশ খানিকটা কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এ সব ব্যাপারে খুব যে একটা ধৈর্যধারণের পক্ষে সেটা মনে হয় নাসাধারণ মানুষ প্রায় সব সমস্যারই একটি তাৎক্ষণিক সমাধান চান এবং সে রকম সমাধান না পেলে রীতিমতো তাঁরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েনসে জন্যেই এ ব্যাপারে সরকার যতখানি পরিকল্পিত ভাবে এগুতে পারে ততটাই ভালআওয়ামি লীগ ক্ষমতা গ্র্রহণের পরই প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে একাধারেকিন্তু প্রাকৃতিক ঝড়ের চাইতে কৃত্রিম যে আঘাত এসেছিল বাংলাদেশের নবীন সরকারের সামনে, পিলখানা হত্যাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে, সেটি ছিল যে কোন সরকারের টিকে থাকা সম্পর্কিত এক অগ্নি পরীক্ষসেই বিয়োগান্তক ঘটনা, এর  কারণ  ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে এ নিয়ে আর খুব বেশি বিশ্লেষণের অবকাশ নেই। তবে যেটা বলা একান্তই আবশ্যক সেটা হলো এই ঘটনা শেখ হাসিনার সরকার যে ভাবে মোকাবিলা করেছে সেটা প্রশংসনীয়ঘটনার তীব্রতা এতখানিই প্রবল ছিল যে সে ধাক্কায় আরো একবার দীর্ঘ সময়ের জন্যে অসামরিক প্রশাসনের যবনিকাপাত হতে পারতো আমরা যারা সাধারণ মানুষ ঘটনার নীরব দর্শক তারাতো এখনও জানিনা এর নেপথ্যের নায়কদের। কেবল এ টুকু বলি যে এত বড় ঘটনার পেছনে বাংলাদেশের সদ্য নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানোটাই ছিল সব চেয়ে বড় লক্ষ্যসেই লক্ষ্য যে অর্জিত হয়নি যে কোন অজ্ঞাত কারণেই হোক না কেন, সে জন্যে আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারি নইলে জিয়া-এরশাদের সময়ের মতো দেশ আবার নিষ্পেষণে নিপতিত হতো

দুই.

এই বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ মোকবিলায় সফল হলেও আওয়ামি লীগের এই সরকারের সামনে রয়েছে মস্ত বড় দুটি চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং ভারতের মনিপুর রাজ্যে প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ সম্বন্ধে ভারতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় সাফল্য অর্জন এর কোনটাই খুব সহজ কাজ নয় বিশেষত, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি রীতিমতো সময় সাপেক্ষ ব্যাপারএ নিয়ে যদিও খুব একটা উচ্চবাচ্য করবে না বিএনপি কারণ বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্যে তারাই মূলত দায়ি। কিন্তু আওয়ামি লীগকেও বুঝতে হবে যে বিরোধী দল দাবি করুক আর না করুক দেশের মানুষের জন্যে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনটা হচ্ছে বিদ্যূৎ এবং এর সঙ্গে অতি অবশ্যই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছেবিদ্যূৎ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার বাজেটে ও এর জন্যে বিপুল অর্থ বরাদ্দ  রেখেছেমানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্যে ঘড়ির কাঁটাও এগিয়ে দেওয়া হয়েছেঅনেকেই বলছেন যে গত বছরও ঘাটতি ছিল। তবে এবার মানুষের দুর্ভোগ আরও অনেক বেশি বেড়েছেতার একটা প্রধান কারণ এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কম আর দ্বিতীয়ত ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যে অভিযোগটা উঠেছে, সেটাও সত্যি কথাসামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট একটি মোটামুটি রেজিমেন্টেড সরকারের পক্ষে যে ভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব এবং সন্ধ্যে লাগতেই যে ভাবে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার নির্বাহি নির্দেশ পালন করেছেন ব্যবসায়ী মহল, সেভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে নির্বাহি আদেশ দিয়ে দোকান  বন্ধ করার একটা বিরূপ  রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া পড়তে পারেলক্ষ্য করার বিষয় যে সময় পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও ব্যবসায়ী মহলের তরফ থেকে খুব যে একটা অনুকুল প্রতিক্রিয় এসেছিল, তা নয়। সুতরাং রাজনৈতিক সরকারগুলোর কাছে কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা থাকে অগণতান্ত্রিক সরকারের চেয়ে বেশিএই বিষয়টি যদি সাধারণ নাগরিক মনে রাখেন তা হলে আওয়ামি লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থপনার অভিযোগ তেমন ভাবে উত্থাপনের তেমন কোন কারণ নেই

তিন.

বাংলাদেশের নতুন সরকারের মধুচন্দ্রিমার সময় শেষ হবার আগেই যে কয়েকটি বড় রকমের বিপত্তি এসেছিল। সেগুলো সরকার তার বিচক্ষণতা দিয়ে দ্রুত কাটিয়ে তুলেছে। তবে সামনে টিপাইমুখ ইস্যুটি সরকারের জন্যে একটা বড় রকমের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি  করেছেভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক অমিমাংসিত ইস্যু রয়েছে। তবে টিপাইমুখ বাঁধের, প্রকৃতপক্ষে জলাধারের বিষয়টির সঙ্গে নিম্নগাঙ্গেয় অঞ্চলের মানুষের ভবিষ্যতের প্রশ্নটি জড়িতবস্তুত এই টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে খোদ ভারতের মণিপুর রাজ্যেও আপত্তি উঠেছে বড় রকমের   এই প্রস্তাবিত জলাধারের প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা, এর বাস্তব উপযোগ এবং ভারতের লোকের কল্যাণে এর প্রয়োগ কতটা সিদ্ধ হবে সেটা একটা প্রশ্ন। আর সেই সঙ্গে হচ্ছে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের ওপর এর কি প্রতিকুল প্রভাব পড়তে পারে সেটা বিবেচনা করে দেখাআজ যে বিশ্বায়নের কথা আমরা জোরে শোরে বলছি সেই বিশ্বায়ন পৃথিবীকে এতটাই ছোট করে এনেছে যে, যে কোন দেশের একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপও অন্য দেশের ওপর বড় রকমের প্রতিকুল প্রভাব ফেলতে পারেসে জন্যে টিপাইমুখ প্রকল্পের সম্পর্কে এক ধরণের স্বচ্ছতার প্রয়োজন রয়েছে সংশ্লিষ্ট  সকলের  জন্যেইভারত এই জলাধার  নির্মানের জন্যে ২০০৫ সালে টেন্ডার ডেকেছিল এবং এর সম্ভাব্যতা নিয়ে যাচাই বাছাইও হয়েছে। কিন্তু বাঁধ  নির্মাণ এখনও শুরু হয়নিসময় থাকতেই এ ব্যাপারে বাংলাদেশ  সরকারকে উদ্যোগি হতে হবে। স্বচ্ছতার খাতিরেই এই বাঁধ সম্পর্কে যে সব তথ্য, উপাত্ত এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রতিক্রয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ভারত সরকারের উচিৎ হবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তরিত করা, যাতে  করে বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞরা নিজেরাও বিষয়টি বুঝতে পারেনএর প্রাযৌক্তিক দিকটি যারা বোঝেন তাদের কাছেই বিষয়টি পরিস্কার হওয়া দরকারকেবল বাংলাদেশ নয়, ভারতের ভেতরেও বিশেষত মণিপুর রাজ্যেও এ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে কতখানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে এই জলাধার সৃষ্টি করা হচ্ছেতবে এই নির্মাণ নিয়ে যে রাজনৈতিক খেলা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে, আপাতত সে দেশের সরকারের সামনে সেটাই বড় চ্যালেঞ্জরাজনৈতিক ইস্যুতে যাওয়ার আগে একটা জিনিষ বোধ হয় পরিস্কার হওয়া প্রয়োজন যে টিপাইমুখে যা  নির্মিত হতে যাচ্ছে সেটি Dam, সেটি কোন Barrage অর্থাৎ বাঁধ নয়বাংলা ভাষায় Dam  Barrage দুটিকেই অনেকে বাঁধ বলে উল্লেখ করেন কিন্তু আসলে Dam হচ্ছে এক ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি  করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে জলাধার সৃষ্টি করা যাতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে বাঁধ তৈরির প্রধান লক্ষ্যটাই হলো নদীর পানি সেচের জন্যে সরিয়ে নেওয়ায় ফারাক্কায় বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। টিপাইমুখে মুলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে বর্ষা মওসুমের বাড়তি পানি ব্যবহার করা হবেবাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে টিপাইমুখ জলাধারকে কেন্দ্র করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছাড়া অন্য কোন ধরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বাংলাদেশে এর প্রভাব  হবে প্রতিকুল তা না হলে বাংলাদেশে  টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের  প্রতিকুল নয় বরঞ্চ অনুকুল প্রভাব পড়ার যথেষ্ট কারণ আছেপানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ঐ জলাধার নির্মাণের ফলে বাংলাদেশে বর্ষাকালে বন্যার ভয়াবহতা হ্রাস পাবে এবং শীতকালে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবেঅবশ্য ভারত সরকার এই প্রকল্পটিকে যদি সেচ প্রকল্পে রূপান্তরিত করতে চায়, যেমনটি অসমের বরাক অঞ্চলের লোক এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেচের সুবিধে পেতে চায় তা হলে সেটি হবে বাংলাদেশের জন্যে বিপর্যয়কর বিষয়সে জন্যেই এ নিয়ে যথার্থ তথ্য উপত্তের ভিত্তিতে কুটনৈতিক ও  বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা হওয়া প্রয়োজনভারতের নিজস্ব সীমানার মধ্যেই ব্যাপারটি ঘটছে বলে ভারত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দায়দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে নাপ্রয়োজনবোধে দুদেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে ও বিচার বিশ্লেষণ হতে পারেপ্রয়োজন বোধে এ নিয়ে দুটি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি ও স্বাক্ষর করা যেতে পারে যে এই প্রকল্পটি অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না, যা ভাটি অঞ্চলে সমস্যার সৃষ্টি করবে

চার.

বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকুলে সরকারকে সব কিছুই করতে হবে এ ব্যাপারে কোন ফাঁক ও ফাঁকির অবকাশ নেই  এটা লক্ষ্য করার বিষয় যে ভারতের সঙ্গে আওয়ামি লীগ সরকারই একাধিক সমস্যার সমাধান করেছেগত বার শেখ হাসিনার সরকার গঙ্গার চুক্তি স্বাক্ষর করার পর বিএনপি সরকার এই চুক্তির বিরুদ্ধে যতখানি উচ্চ কন্ঠ হয়েছিল ক্ষমতায় গিয়ে তারা নিজেরাই দেখেছে যে গঙ্গা চুক্তি দেশের জন্যে ক্ষতিকর কোন চুক্তি ছিল নাএকই ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ও বিরোধীতা করেছিল বিএনপি নানান অজুহাতে। কিন্তু কার্যত সেই চুক্তির কারণে আমাদের দেশের অখন্ডতা বিষয়ক একটি সমস্যার সমাধান হয়েছেসে জন্যেই জনগণের প্রত্যাশা যে ভারতের সঙ্গে এই টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ সরকার অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবেতবে আওয়ামি লীগ সরকারের জন্যে সমস্যা হচ্ছে যে বিএনপি মুলত আওয়ামি লীগের সঙ্গে এক রকম স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত হয় যখন আওয়ামি লীগকে ভারতপন্থি দল হিসেবে চিত্রিত করার অপপ্রয়াস বিএনপি চালিয়ে যায়এই স্নায়বিক চাপের কারণেই আওয়ামি লীগ সরকারকে ভারতের সঙ্গে  সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরো বেশি সতর্ক হতে হয়আওয়ামি লীগের সৌভাগ্য যে ভারতে এখন  কংগ্রেস সরকার ক্ষমতাসীন এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামি লীগের যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং উভয় দল যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা পোষণ করে সে সব কারণে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এ নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার পরিস্কার সুযোগ রয়েছেবিএনপি এবং তাদের চারদলীয় জোট কুশিয়ারা জল ঘোলা করে মাছ শিকারের চেষ্টা করবে সেটাই জানা কথা। কিন্তু জনগণকে বুঝতে হবে যে ইস্যুটা রাজনৈতিক নয়, প্রাযৌক্তিক। পুরো ব্যাপারটির নিস্পত্তি হওয়া উচিৎ যৌক্তিক ও প্রাযৌক্তিকভাবেসম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী যে বিষয়টির রাজনীতিকিকরণে বিপক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। সে নিয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেনবস্তুনিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে শ্রী চক্রবর্তী খুব একটা ভুল কিছু বলেননি। তবে ভাল হতো  যে একজন বিদেশি কুটনিতীক হিসেবে তিনি সে কথা উল্লেখ না করেই টিপাইমুখ জলবিদ্যূৎ প্রকল্পের বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করতে পারতেনভারতীয় রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক হয়েছে প্রচুর

পাঁচ.

তবে পরিশেষে যে কথাটা মনে রাখা দরকার সেটা হলো জনগণের স্বার্থকোন একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা কিংবা ভোট বাক্সে বোনাস লাভ করা দেশপ্রেমের চিহ্ন নয়বিএনপিকে ভুলে গেলে চলবে না যে টিপাইমুখ প্রকল্পের প্রথম পরিকল্পনা নেওয়া হয় ১৯৭৭ সালে যখন জেনারেল জিয়া ক্ষমতাসীনতালপট্টি নিয়ে এত বেশি কথাবার্তা শোনা গিয়েছিল তখন যে সম্ভবত তারই আড়ালে টিপাইমুখেরর প্রসঙ্গটি চাপা পড়ে২০০৫ সালে টিপাইমুখ প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বানের সময়েও বিএনপি ক্ষমতাসীন ছিলতারা সে সময় এ বিষয়ে কোন উচ্চবাচ্য করেননি এখন জনগণের স্বার্থের চেয়ে আওয়ামি লীগকে বেকায়দায় ফেলার জন্যে এ নিয়ে রাজনীতির মাঠ সরগরম করলে বিএনপি হয়ত  রাজনীতিতে বোনাস পয়েন্ট পাবেতবে বিএনপি সেই সময় বিষয়টি নিয়ে কিছু করেনি, সেই অজুহাতে আওয়ামি লীগ এ নিয়ে নিশ্চুপ থাকবে, সেটা ও কোন কাজের কথা নয়বিএনপির অন্তত একটি দাবি আমার কাছে ন্যায়সঙ্গত মনে হয়েছে যে টিপাইমুখ প্রকল্প যারা দেখতে যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত  করা উচিৎ। তবে সর্বদলীয় এই পার্লামেন্টারী দলের সদস্য হিসেবে বিএনপি যে এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সেটাও জনগণের ভোটের সঙ্গে প্রতারণার শামিলএমনতো হতেই পারে যে এই সংসদীয় দলের সফরের পর বিশেষজ্ঞ দলও সেই এলাকা সফর করবেনসুতরাং এ নিয়ে এখনই উত্তেজিত হবার কিছু নেইএখন দরকার বাংলাদেশে ঐ প্রকল্পের সম্ভাব্য যে কোন প্রতিকুল প্রভাব খুটিয়ে দেখা এবং এ ব্যাপারে ভারত-বাংলাদেশ এর যৌথ ব্যবস্থা গ্রহণ

অনিরুদ্ধ আহমেদ:  যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক ও নিবন্ধকার
aauniruddho@gmail.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.